৬৮,৬৪৮ টন এলএনজি নিয়ে মহেশখালীতে নাইজেরিয়ার কার্গো জাহাজ
মাল্টার পতাকাবাহী ‘কুল ভয়েজার’ নামের ওই জাহাজটি রোববার সন্ধ্যায় মহেশখালী দ্বীপের ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানির উৎস বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় নাইজেরিয়া থেকে ৬৮ হাজার ৬৪৮ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাল্টার পতাকাবাহী 'কুল ভয়েজার' নামের ওই জাহাজটি রোববার সন্ধ্যায় মহেশখালী দ্বীপের ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার থেকে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। বিকল্প উৎস খোঁজার অংশ হিসেবেই এই চালানটি আনা হয়েছে।
গ্লোবাল ভেসেল ট্র্যাকিং সার্ভিস বা বিশ্বজুড়ে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিনট্রাফিক-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮০.৫৭ মিটার দীর্ঘ এবং ৪৩.৪২ মিটার চওড়া এই এলএনজি ট্যাঙ্কারটি গত ১২ মার্চ নাইজেরিয়ার বনি বন্দর থেকে রওনা দিয়ে ৫ এপ্রিল মহেশখালীর উপকূলে পৌঁছায়
।রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এলএনজি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'জাহাজটিতে ৬৮ হাজার ৬৪৮ টন এলএনজি রয়েছে। গতকাল জাহাজটি পৌঁছানোর পর আজ (সোমবার) সকাল থেকেই খালাসের কাজ শুরু হয়েছে।'
তিনি জানান, নাইজেরিয়া থেকে আমদানি করা এই এলএনজির দাম মধ্যপ্রাচ্যের এলএনজির দামের প্রায় কাছাকাছি। এর আগেও বাংলাদেশ বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকার এই দেশটি থেকে এলএনজি আমদানি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে সাইফুল্লাহ বলেন, এপ্রিলে আসা এলএনজির এটি দ্বিতীয় চালান। এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৯ হাজার ৮৮১ টন এলএনজি নিয়ে আরেকটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। ওই চালানের খালাস প্রক্রিয়াও এখন চলছে।
আরপিজিসিএল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে বিভিন্ন দেশ থেকে আটটি জাহাজে করে প্রায় ছয় লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে বাংলাদেশ।
গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আমদানির উৎস বহুমুখী করার অংশ হিসেবে চলতি মাসে আরও আট থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মন্তব্যসমূহ