২৬ রানে হারল বাংলাদেশ
![]() |
| বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড: প্রথম ওয়ানডে |
সংক্ষপ্তি স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮
বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২২১
চুম্বক অংশ
টিকনারের জোড়া আঘাত
টিকলেন না মিরাজ
আফিফের বিদায়ে ভাঙল জুটি
দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড
অহেতুক শটে সাইফের বিদায়
সাইফের পঞ্চাশ, বাংলাদেশের একশ
সাইফ-লিটনের জুটিতে পঞ্চাশ
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৫১/২
স্মিথের জোড়া আঘাত
২৪৮ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ
নাহিদের স্লোয়ারে বোল্ড ফক্সক্রফট
তাসকিনের বলে বোল্ড ক্লার্কসন
আব্বাসকে ফেরালেন শরিফুল
নিকোলসের প্রতিরোধ ভাঙলেন রিশাদ
মিরাজের আর্ম বলে বোল্ড ল্যাথাম
জুটি ভাঙলেন রিশাদ
নিকোলস-ইয়াংয়ের জুটিতে পঞ্চাশ
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের চমৎকার বোলিং
ইয়াংয়ের ক্যাচ ছাড়লেন সাইফ
শুরুর জুটি ভাঙলেন শরিফুল
শরিফুল-তাসকিনের আঁটসাঁট বোলিং
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৬ রানে হারল বাংলাদেশ
ন্যাথান স্মিথের ওভারের প্রথম বল ছক্কায় ওড়ালেন তাওহিদ হৃদয়। ৫৮ বলে তিনি স্পর্শ করলেন পঞ্চাশ।
এক বল পর আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় হেনরি নিকোলসের হাতে ধরা পড়লেন হৃদয়। ৬০ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে তিনি করলেন ৫৫ রান।
৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয়ে গেল বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে হারল ২৬ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, কেলি ৭, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৪, ফক্সক্রফট ৫৯, ক্লার্কসন ৮, স্মিথ ২১*, টিকনার ৭, লেনক্স ১*; তাসকিন ১০-০-৫০-২, শরিফুল ১০-২-২৭-২, মিরাজ ১০-১-৫৪-১, নাহিদ ১০-০-৬৫-১, রিশাদ ১০-০-৪৪-২)
বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২২১ (সাইফ ৫৭, তানজিদ ২, শান্ত ২, লিটন ৪৬, হৃদয় ৫৫, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরিফুল ০, তাসকিন ২, নাহিদ ০*; ও’রোক ৯-০-৫১-১, স্মিথ ৯.৩-১-৪৫-৩, টিকনার ১০-০-৪০-৪, ক্লার্কসন ৪-০-২৭-০, লেনক্স ১০-০-৩২-১, ফক্সক্রফট ৬-০-২৫-১)
দ্রুত ফিরলেন তাসকিন
অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনলেন তাসকিন আহমেদ। ব্লেয়ান টিকনার পেলেন চতুর্থ উইকেট, বাংলাদেশ হারাল নবম উইকেট।
৫ বলে তাসকিন করেন ২ রান।
৪৭.৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ৯ উইকেটে ২১৪। ক্রিজে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গী নাহিদ রানা।
টিকনারের জোড়া আঘাত
ব্লেয়ার টিকনারের স্লোয়ার বাউন্সার ঠিকঠাক খেলতে পারলেন না রিশাদ হোসেন। অনেকটা লাফিয়ে ক্যাচ নিলেন বোলার নিজেই।
৯ বল খেলে রিশাদ করতে পারলেন ৪ রান।
পরের বল হলো ওয়াইড।
এরপরে বলে বোল্ড হয়ে গেলেন শরিফুল ইসলাম। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পেলেন তিনি।
৪৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ২০৩। ক্রিজে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গী তাসকিন আহমেদ।
টিকলেন না মিরাজ
অনেক কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণ মেলাতে কিছুই করতে পারলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়কের বিদায়ে বিপদ আরও বাড়ল বাংলাদেশের।
ব্লেয়ার টিকনারের বলে রিভার্স শর্টের চেষ্টায় টম ল্যাথামের হাতে ধরা পড়েন মিরাজ। ১৪ বলে তিনি করেন ৬ রান।
৪৪ ওভারে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ১৯৫। ক্রিজে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গী রিশাদ হোসেন।
শেষ ৬ ওভারে ৫৩ রান চাই বাংলাদেশের।
আফিফের বিদায়ে ভাঙল জুটি
জেডেন লেনক্সের ওভারের প্রথম বলে ২ রান নিলেন তাওহিদ হৃদয়। জুটির রান স্পর্শ করল পঞ্চাশ, ৭৭ বলে।
এক বল পর স্ট্রাইক পেয়ে বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় ধরা পড়লেন আফিফ। ভাঙল ৭৯ বল স্থায়ী ৫২ রানের জুটি।
জুটিতে বাউন্ডারি কেবল একটি। বাংলাদেশ ইনিংসে ৯১ বল সেই বাউন্ডারি আসে হৃদয়ের ব্যাট থেকে।
অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও একদমই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না আফিফ। ২৭ রান করতে তিনি খেলেন ৪৯ বল। ইনিংসে নেই কোনো বাউন্ডারি।
৪১ ওভারে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১৮৪। ক্রিজে হৃদয়ের সঙ্গী অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড
ডিন ফক্সক্রফটের ডেলিভারি পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন লিটন দাস। ফুট মার্ক পরে বল নিল তীক্ষ্ন বাঁক। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে ছোবল দিল স্টাম্পে!
এক রাশ হতাশা নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন লিটন। ভাঙল ২৯ বল স্থায়ী ১৮ রানের জুটি।
৬৮ বলে তিন চারে ৪৬ রান করেন লিটন।
২৮ ওভারে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ১৩৫। ক্রিজে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গী আফিফ হোসেন।
অহেতুক শটে সাইফের বিদায়
কোনো প্রয়োজন ছিল না অমন শটের। বিনা কারণে ঝুঁকি নিলেন সাইফ হাসান। এর মাশুল দিলেন তিনি নিজের উইকেট বিলিয়ে।
উইল ও’রোকের ওভারের প্রথম দুটি বল ডট খেলেন সাইফ। তৃতীয় বলে বেরিয়ে এসে লেগে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন তিনি। টাইমিং হয়নি একেবারেই। মিডঅনে সহজ ক্যাচ নেন জশ ক্লার্কসন। ভাঙে ১১৬ বল স্থায়ী ৯৩ রানের জুটি।
৭৬ বলে আট চার ও এক ছক্কায় ৫৭ রান করেন সাইফ।
২৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ১১৫। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী তাওহিদ হৃদয়।
সাইফের পঞ্চাশ, বাংলাদেশের একশ
জশ ক্লার্কসনের ওভারে তিনটি বাউন্ডারি এলো সাইফ হাসানের ব্যাট থেকে। তৃতীয় বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পঞ্চাশ স্পর্শ করলেন এই ওপেনার, বাংলাদেশের রান স্পর্শ করল তিন অঙ্ক।
৫৯ বলে পঞ্চাশে যান সাইফ। তিনি ফিরতে পারতেন ১ রান। স্লিপে জীবন পাওয়ার পর থেকে আস্থার সঙ্গে খেলছেন এই ওপেনার। পাকিস্তান সিরিজে ব্যর্থতার পর এই সিরিজে তিনি লড়ছেন একাদশে টিকে থাকতে।
১৯ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১০১। ৬১ বলে এক ছক্কা ও আট চারে ৫৩ রানে খেলছেন সাইফ। ৪৭ বলে তুই চারে ২৮ রানে ব্যাট করছেন লিটন দাস।
সাইফ-লিটনের জুটিতে পঞ্চাশ
তৃতীয় উইকেটে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েছেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস, ৭২ বলে।
১ রানে জীবন পাওয়ার পর থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করছেন সাইফ। সাবধানী ব্যাটিংয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন লিটন দাস।
অসমান বাউন্স বেশ ভোগাচ্ছে দুই ব্যাটসম্যানকে। তবে যতটা সম্ভব মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বাজে বল পেলে মারছেন বাউন্ডারি।
১৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৭৬ রান। ৪১ বলে ২৫ রানে খেলছেন লিটন। ৪৯ বলে ৩২ রানে ব্যাট করছেন সাইফ।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৫১/২
চতুর্থ ওভারে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর প্রতিরোধ গড়েছেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। তৃতীয় উইকেটে দুই জনে টানছেন বাংলাদেশকে।
১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৫১। ২৬ বলে এক চারে ১৫ রানে খেলছেন লিটন দাস। ২৮ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ১৮ রানে ব্যাট করছেন সাইফ।
জয়ের জন্য ৪০ ওভারে ১৯৭ রান চাই বাংলাদেশের।
স্মিথের জোড়া আঘাত
প্রথম ৩ ওভারে এলো ২১ রান। চতুর্থ ওভারের প্রথম বল তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হলেন তানজিদ হাসান। পরের বলে লেগে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে গেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত!
পরপর দুই বলে দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ।
কিছুটা মুভমেন্ট পাচ্ছেন ন্যাথান স্মিথ। নিজের প্রথম ওভারেও উইকেট পেতে পারতেন এই পেসার। তার বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সাইফ হাসান।
নিজের পরের ওভারের প্রথম বলেই স্মিথ পান তানজিদের উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে চমৎকার ব্যাটিং করা ওপেনার বেরিয়ে এসে চড়াও হতে গিয়ে বলের লাইনে যেতে পারেননি। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প।
৬ বল খেলে তানজিদ করেন ২ রান।
পরের বলও ছিল স্টাম্পে। ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন শান্ত। বলের লাইনে যেতে পারেননি বাঁহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান তিনি।
স্মিথের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন লিটন দাস।
৪ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ২৩।
জীবন পেলেন সাইফ
একাদশে নিজের জায়গা পাকা করার লড়াইয়ে থাকা সাইফ হাসান বেঁচে গেলেন শুরুতেই। স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়লেন ফিল্ডার।
প্রথম ওভারে ৫ বল খেলে একটি সিঙ্গেল নিতে পারেন সাইফ। পরের ওভারে ন্যাথান স্মিথের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে বসেন তিনি। সহজ ক্যাচ যায় স্লিপে। কিন্তু হেনরি নিকোলস বল রাখতে পারেননি মুঠোয়।
সে সময় ১ রানে ছিলেন সাইফ।
২ ওভারে বাংলাদেশের রান বিনা উইকেটে ১০।
ছক্কা মারতে ব্যর্থ নিউ জিল্যান্ড
ওভার কাটা হয়নি এমন ওয়ানডেতে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ছক্কা মারতে ব্যর্থ হলো নিউ জিল্যান্ড। সবশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রাথমকি পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ছক্কা মারতে পারেনি তারা।
২৪৮ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ
টস হেরে বোলিং করতে নেমে নিউ জিল্যন্ডকে আড়াইশ রানের নিচে থামিয়েছে বাংলাদেশ।
৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করেছে নিউ জিল্যান্ড।
শেষ ওভারে তারা হারিয়েছে ব্লেয়ার টিকনারের উইকেট। তাসকিন আহমেদের চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন টিকনার।
দুটি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও তাসকিন। শরিফুল ও রিশাদের বোলিংয়ে হাতছাড়া হয়েছে একটি করে সুযোগ।
টসের ঠিক আগ মুহূর্তে দলে জায়গা মেলে শরিফুলের। মুস্তাফিজুর রহমানের চোট সমস্যায় একাদশে জায়গা পান বাঁহাতি এই পেসার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, কেলি ৭, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৪, ফক্সক্রফট ৫৯, ক্লার্কসন ৮, স্মিথ ২১*, টিকনার ৭, লেনক্স ১*; তাসকিন ১০-০-৫০-২, শরিফুল ১০-২-২৭-২, মিরাজ ১০-১-৫৪-১, নাহিদ ১০-০-৬৫-১, রিশাদ ১০-০-৪৪-২)
নাহিদের স্লোয়ারে বোল্ড ফক্সক্রফট
নতুন ওভারের প্রথম তিন বলে হজম করলেন দুটি বাউন্ডারি। তবে এরপরও হাতে ধরা দিল সাফল্য। উইকেট পেলেন নাহিদ রানা।
অফ স্টাম্পের স্লোয়ারে বল পেতে দেন ডিন ফক্সক্রফট। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় অফ স্টাম্পে। ভাঙে ৩২ বল স্থায়ী ৩৪ রানের জুটি।
৫৮ বলে আট চারে ফক্সক্রফট করেন ৫৯ রান।
৪৭ ওভারে নিউ জিল্যান্ড রান ৭ উইকেটে ২২৮। ক্রিজে ন্যাথান স্মিথের সঙ্গী ব্লেয়ার টিকনার।
৫২ বলে ফক্সক্রফটের পঞ্চাশ
২০২৩ সালে মিরপুরে অভিষেকে তিনে নেমে শরিফুল ইসলামের প্রথম বলেই আউট হয়েছিলন ডিন ফক্সক্রফট। তিন বছর পর আরেকটি ওয়ানডে খেললেন তিনি মিরপুরেই। এবারে ৫২ বলে স্পর্শ করলেন পঞ্চাশ।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন ফক্সক্রফট। বাজে বল পেলে মারছেন বাউন্ডারি। রানের চাকা মূলত তিনিই সচল রেখেছেন।
৪৬ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ২১৮।
তাসকিনের বলে বোল্ড ক্লার্কসন
অফ স্টাম্পে তাক করে করা ডেলিভারির লাইনে যেতে পারলেন না জশ ক্লার্কসন। একটু নিচু হওয়া ডেলিভারি আঘাত হানল স্টাম্পে।
নিজের অষ্টম ওভারে এসে উইকেটের দেখা পেলেন তাসকিন। ভাঙল ৩৪ বল স্থায়ী ২৭ রানের জুটি।
১৬ বলে ক্লার্কসন করেন ৮ রান।
৪২ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১৯৩। ক্রিজে ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গী ন্যাথান স্মিথ।
রিভিউ শেষ বাংলাদেশের
পরপর দুই বলে দুটি রিভিউ হলো। প্রথমটি সফল হয়ে টিকে গেলেন ডিন ফক্সক্রফট। পরেরটিতে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ রিভিউ হারাল বাংলাদেশ।
রিশাদ হোসেনের প্রথম বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিল দিলে রিভিউ নেন ফক্সক্রফট। তার গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিল বল। পরের বলে কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। এবার ব্যাট বা গ্লাভস কিছুরই স্পর্শ ছিল না বলে।
৪১ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ১৯২।
ফক্সক্রফটের ক্যাচ ছাড়লেন তানজিদ
স্লিপে হাত থেকে ছুটল আরেকটি ক্যাচ। রিশাদ হোসেনের বলে ডিন ফক্সক্রফটের ক্যাচ ছাড়লেন রিশাদ হোসেন।
লেগ স্পিনারের বলে রিভার্স সুইপ করেন ফক্সক্রফট। টাইমিং করতে পারেননি তিনি। দ্রুত গতিতে বল যায় প্রথম স্লিপে। নিচু হয়ে বলে হাত লাগালেও মুঠোয় রাখতে পারেননি তানজিদ। সে সময় ২৭ রানে ছিলেন ফক্সক্রফট।
৩৯ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ১৮০।
আব্বাসকে ফেরালেন শরিফুল
অফ স্টাম্পের বাইরে টানা বল করে মুহাম্মদ আব্বাসের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন শরিফুল ইসলাম। নিউ জিল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বিদায় নিলেন তেমনই এক ডেলিভারি তাড়া করতে গিয়ে।
অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের ডেলিভারির লাইনে যেতে পারেননি আব্বাস। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে। ভাঙে ৪৭ বল স্থায়ী ৩৪ রানের জুটি।
৩০ বলে ১৪ রান করেন আব্বাস।
৩৬ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ১৬৫। ক্রিজে ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গী জশ ক্লার্কসন।
বাংলাদেশের ব্যর্থ রিভিউ
নাহিদ রানার বলে এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ।
ডিন ফক্সক্রফট ব্যাটে খেলতে পারেননি গতিময় পেসারের ডেলিভারি। আম্পায়ার জোরাল আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
কিপার লিটন দাস ইশারা দিচ্ছিলেন বল লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছে। পরে সেটাই সত্যি হয়। এতে একটি রিভিউ হারায় বাংলাদেশ।
২৯ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৪ উইকেটে ১৩৪।
নিকোলসের প্রতিরোধ ভাঙলেন রিশাদ
উইল ইয়াংয়ের মতো হেনরি নিকোলসও ফিরলেন রিশাদ হোসেনের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে।
রিভার্স সুইপ করে এই ইনিংসে আগে বাউন্ডারি পেয়েছিলেন নিকোলস। এবার পারলেন তিনি। লেগ স্পিনারের বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ল লিটন দাসের গ্লাভসে।
৮৩ বলে ৯ চারে নিকোলস করেন ৬৮ রান।
২৮ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৪ উইকেটে ১৩১। ক্রিজে মুহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গী ডিন ফক্সক্রফট।
মিরাজের আর্ম বলে বোল্ড ল্যাথাম
আগের বলে চার মারলেন টম ল্যাথাম। পরের বলে তাকে বোল্ড করে ফেরালেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
আর্ম ডেলিভারিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক পেলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কের উইকেট।
একটু স্কিড করা ডেলিভারি কিছুটা নিচুও হয়। চমকে গিয়ে তড়িঘড়ি করে ব্যাট নামিয়েও বলের লাইনে যেতে পারেননি ল্যাথাম। এলেমেলো হয়ে যায় স্টাম্প। ভাঙে ৩২ বল স্থায়ী ৩৩ রানের জুটি।
১৫ বলে দুই চারে ১৪ রান করেন ল্যাথাম।
২৭ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ১২৯। ক্রিজে হেনরি নিকোলসের সঙ্গী মুহাম্মদ আব্বাস।
মাঝপথে নিউ জিল্যান্ড ১২০/২
খুব বেশি রান করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। তবে বেশি উইকেটও নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ২৫ ওভারে তাই রান বাড়িয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ আছে নিউ জিল্যান্ড।
২৫ ওভারে সফরকারীদের রান ২ উইকেটে ১২০। ৭৪ বলে নয় চারে ৬৫ রানে খেলছেন ওপেনার হেনরি নিকোলস। ১১ বলে এক চারে টম ল্যাথামের রান ৯।
নিকোলসের চমৎকার ফিফটি
নাহিদ রানার বলে স্কয়ার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের ১৭তম পঞ্চাশ স্পর্শ করলেন হেনরি নিকোলস। বাঁহাতি ওপেনারের লাগল ৬৫ বল। ওই বাউন্ডারিতেই নিউ জিল্যান্ডের রান গেল তিন অঙ্কে।
২৩ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ১০৩। ৭ চারে ৬৬ বলে নিকোলসের রান ৫৪। ৭ বলে ৩ রানে খেলছেন টম ল্যাথাম।
জুটি ভাঙলেন রিশাদ
জমে যাওয়া জুটি ভাঙলেন রিশাদ হোসেন। লেগ স্পিনারের বলে স্লিপে ধরা পড়লেন উইল ইয়াং।
অফ স্টাম্পের বাইরের বলে রিভার্স সুইপ করেন ইয়াং। ঠিকঠাক খেলতে পারেননি তিনি। স্লিপে সহজ ক্যাচ নেন তানজিদ হাসান। ভাঙে ৮৮ বল স্থায়ী ৭৩ রানের জুটি।
১ রানে স্লিপেই সাইফ হাসানের হাতে জীবন পেয়েছিলেন ইয়াং। ৪২ বলে দুই চারে তিনি ফিরলেন ৩০ রান করে।
২২ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ৯৭। ক্রিজে হেনরি নিকোলসের সঙ্গী অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন নিকোলস
এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দেওয়া মাত্র রিভিউ নিলেন হেনরি নিকোলস। নাহিদ রানার ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছিল ব্যাটের কানা।
আল্ট্রাএজে বলে ব্যাটের স্পর্শ থাকার প্রমাণ মেলায় সিদ্ধান্ত পাল্টান আম্পায়ার তানভির আহমেদ।
সে সময় ৩৫ রানে ছিলেন নিকোলস। পরের বলে তিনি মারেন বাউন্ডারি।
১৯ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৭৯।
নিকোলস-ইয়াংয়ের জুটিতে পঞ্চাশ
শুরুতেই ভাঙতে পারত যে জুটি, সেটি দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নিচ্ছে নিউ জিল্যান্ডকে।
দ্বিতীয় উইকেটে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েছেন হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং. ৬৪ বলে।
১ রানে জীবন পাওয়া ইয়াং দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন নিকোলসকে। বাংলাদেশের আঁটসাঁট বোলিংয়ের পরও ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ছে নিউ জিল্যান্ড।
১৮ ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭৩। ৫০ বলে পাঁচ চারে ৩৫ রানে খেলছেন নিকোলস। ৩৫ বলে দুই চারে ২২ রানে খেলছেন ইয়াং।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের চমৎকার বোলিং
টস হেরে বোলিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করেছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে সহজে রান করতে দেয়নি সফরকারীদের।
১০ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৩৮। ২৪ বলে তিন চারে ১৯ রানে ব্যাট করছেন হেনরি নিকোলস। ১৩ বলে এক চারে ৫ রানে ব্যাট করছেন উইল ইয়াং।
বোল্ড করে নিক কেলিকে বিদায় করেছেন শরিফুল ইসলাম। ইয়াংয়ের উইকেটও পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু তার বলে স্লিপে ক্যাচ নিতে পারেননি সাইফ হাসান।
৪ ওভারে কেবল ৮ রান দিয়েছেন শরিফুল।
ইয়াংয়ের ক্যাচ ছাড়লেন সাইফ
টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট পেতে পারতেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি এই পেসারের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ নিতে পারলেন না সাইফ হাসান।
অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বেরিয়ে যাওয়া বল খোঁচা মারেন ইয়াং। বল স্লিপে, সাইফের হাতে। কিন্তু মুঠোয় রাখতে পারেননি ফিল্ডার।
সে সময় ১ রানে ছিলেন ইয়াং। ওভারটি মেডেন খেলেন তিনি।
৯ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ২৯। ২২ বলে দুই চারে ১৪ রানে খেলছেন নিকোলস। ৯ বলে ইয়াংয়ের রান ১
।শুরুর জুটি ভাঙলেন শরিফুল
ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শরিফুল ইসলামের জায়গায় নিজেই বোলিংয়ে এলেন এই অফ স্পিনার। ওভারটি মেডেন খেললেন নিক কেলি।
পরের ওভারে বোলিংয়ে ফের পরিবর্তন করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাসকিন আহমেদের জায়গায় নিয়ে এলেন শরিফুলকে। বাঁহাতি এই পেসারের হাত ধরেই এলো প্রথম সাফল্য।
দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পেয়ে বাউন্ডারি মারলেন কেলি। পরের বল গায়ের জোরে লেগে খেলতে গিয়ে হলেন বোল্ড। ব্যাটের কানায় লেগে বল লাগল লেগ স্টাম্পে। ভাঙল ২১ রানের উদ্বোধনী জুটি।
শুরু থেকে চমৎকার বোলিংয়ের পুরস্কার দ্রুতই পেলেন শরিফুল।
২৩ বলে এক চারে ৭ রান করে ফিরলেন কেলি।
৭ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ২৪। ক্রিজে হেনরি নিকোলসের সঙ্গী উইল ইয়াং।
শরিফুল-তাসকিনের আঁটসাঁট বোলিং
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দ্রুত রান পাচ্ছে না নিউ জিল্যান্ড। শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন হেনরি নিকলস ও নিক কেলি।
৫ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান বিনা উইকেটে ১৬। ১৫ বলে এক চারে নিকলসের রান ৮। সমান বলে কেলির রান ৩।
নিজের ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। শরিফুল ২ ওভার দিয়েছেন কেবল ২ রান।
তিন পেসার নিয়ে নামছে নিউ জিল্যান্ডও
বাংলাদেশের মতো নিউ জিল্যান্ডও একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার নিয়ে। সঙ্গে কয়েকজন অলরাউন্ডারও আছে সফরকারী দলে।
নিউ জিল্যান্ড: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মুহাম্মাদ আব্বাস, জশ ক্লার্কসন, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও’রোক, ন্যাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইল ইয়াং।
মুস্তাফিজের জায়গায় শরিফুল
পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা তৃতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় শেষ মুহূর্তে দলে এসেছেন আরেক বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
টসের সময় একদম শেষ মুহূর্তে টিম শিট বদলেছে বাংলাদেশ। কোচ ফিল সিমন্স এসে ভিন্ন শিট দিয়ে গেছেন।
বিসিবি থেকে দেওয়া শিটের জন্য সংশয় তৈরি হয়েছিল। পরে আরেকটি শিট দিয়ে সংশয় দূর করে বিসিবি। এ সময় টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবালের একটি অডিও বার্তাও দেয় তারা। সেখান নাফিস বলেছেন, ওয়ার্মআপের সময় ডান হাঁটুতে সমস্যা অনুভব করেন মুস্তাফিজ। টসের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সে আজ খেলছে না। তার জায়গায় আজ শরিফুল খেলবে।
বাংলাদেশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতলেন টম ল্যাথাম। নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক নিলেন ব্যাটিং।
টসের সময় দুই অধিনায়কই বলেছেন, উইকেট ভালো মনে হচ্ছে। ল্যাথামের ধারণা, ম্যাচের পরের দিকে একটু স্লো হতে পারে উইকেট।
সিরিজের শুরুতে আগে বোলিংই চেয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। টস হেরেও চাওয়া পূরণ হয়েছে তার। উইকেট কেমন আচরণ করবে ঠিক নিশ্চিত নন তিনি।
জয়ে শুরুর লক্ষ্যে নামছে বাংলাদেশ
অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরুর লক্ষ্যে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের দলের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এই সিরিজ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে শুরু হবে সকাল ১১টায়। বাংলাদেশে এই সময়ে কোনো ম্যাচ শুরু হওয়া খুবই বিরল। জ্বালানি বাঁচাতে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিতেই দিবারাত্রির এই ম্যাচ এগিয়ে সকালে শুরু করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় এই সিরিজে নিয়মিত খেলোয়াড়দের কাউকেই পাচ্ছে না নিউ জিল্যান্ড। নতুন চেহারার এক দল নিয়ে খেলতে এসেছে তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ পাচ্ছে পূর্ণ শক্তির দল।
২০০৪ সালের পর বাংলাদেশ সফরে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি নিউ জিল্যান্ড; ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৩ সালে হারে তারা, ২০২৩ সালের ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

মন্তব্যসমূহ