লিবিয়ার বন্দীশালায় মাদারীপুরের আরেকজনের মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩
![]() |
| জহিরুল ইসলামের বাড়িতে শোকের মাতম |
[ মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি ]
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লিবিয়ার বন্দীশালায় এ নিয়ে তিন যুবক মারা গেছে বলে জানা গেছে।
লিবিয়ার বন্দীশালায় দালালের নির্যাতনে বাংলাদেশী আরো এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ১৫ দিন আগে একইভাবে মারা যায় আরো দুই যুবক। তাদের সবার বাড়িই মাদারীপুরে।
![]() |
| জহিরুল ইসলামের |
মৃত্যুর খবরে পরিবারে চলছে মাতম। নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে কৃষি কাজ করে সংসার চালাতেন ৩০ বছরের যুবক জহিরুল ইসলাম। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখেই চলতো সংসার। কিন্তু দালালের খপ্পড়ে পড়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে গিয়ে প্রাণ গেল তার।
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধুয়াসার গ্রামের সামচু আকনের ছেলে জহিরুল পাশের ধুলগ্রাম এলাকার মানবপাচারকারী সক্রিয় সদস্য হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বরের প্রলোভনে পড়ে। পাঁচ মাস আগে সরাসারি ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন তিনি। কিন্তু তাকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়
![]() |
| জহিরুল ইসলামের বাড়িতে শোকের মাতম |
দালালচক্র। এরপর তাকে সেখানকার একটি বন্দীশালায় আটকে চালানো হয় নির্যাতন। পরে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে আদায় করা হয় মুক্তিপণের ৫০ লাখ টাকা। এরপর মাফিয়ারা আরো নির্যাতন করলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে জহিরুল। ১৫ দিন আগে জহিরুলের মৃত্যু হলেও বিষয়টি গোপন রাখে দালালচক্র। শেষমেশ লিবিয়ায় বসবাসরত একই গ্রামের কয়েক যুবকের মাধ্যমে খবর পায় পরিবার। এই ঘটনায় দালালের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
![]() |
| জহিরুল ইসলামের বাড়িতে শোকের মাতম |
জহিরুলের স্ত্রী সাথি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমাদের কাছে থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে, সেই টাকাও ফেরত চাই। সরকারের কাছে আকুতি জানাই আমার স্বামীর লাশটি যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করে।’
![]() |
| জহিরুল ইসলামের বাড়িতে শোকের মাতম |
দালাল জাকিরের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশী পারভীন বেগম বলেন, ‘গত রমজান মাসে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় জাকিরের পরিবার। এরপর আর কোনো খোঁজই নেই। পরে আমরা জানতে পারছি জাকির বিদেশে লোক নেয়।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লিবিয়ার বন্দীশা এ নিয়ে তিন যুবক মারা গেছে বলনা গেছে। নিহতের পরিবার থেকেলিখিত অভিযোগ পেলে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, এর আগে একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ডাসার উপজেলার বিনতিলুক এলাকার মৃত সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার ও কালকিনির দক্ষিণ জনারদন্দি গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার মারা যান। এছাড়া জহিরুলের সাথে নির্যাতনের শিকার একই উপজেলার মধ্য ধুলগ্রামের সৈয়দ আসলামের ছেলে ইমামুল নিখোঁজ রয়েছে।





মন্তব্যসমূহ