ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া ফেরিঘাটে প্রস্তুতি শেষের পথে, ভাঙন ও খাড়া সড়কে ভোগান্তির শঙ্কা

 


“ঘাট পন্টুন থেকে মূল সড়কে ওঠার ঢাল পাহাড়সম করা হয়েছে। অনেক সময় ব্রেক কাজ করলেও গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়।”

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ।


ফেরি মেরামত, রঙের কাজ, পন্টুন সংস্কার ও অতিরিক্ত নৌযান প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘাটের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পদ্মা নদীর ভাঙনকে ঘিরে যাত্রী ভোগান্তির আশঙ্কা রয়ে গেছে।


বৃহস্পতিবার পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মেরিন শ্রমিক রফিক, শাহ আলম ও দাউদ হাওলাদার ফেরি রঙের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা বলেন, তিনদিন আগে তারা পাটুরিয়ায় এসেছেন। এখন ‘বাইগার’, ‘খানজাহান আলী’ ও ‘করবী’ ফেরিতে রঙের কাজ চলছে।

ফেরির ইঞ্জিন মেকানিক জীবন মিয়া বলেন, কয়েকটি ফেরির ইঞ্জিন মেরামত ও রঙের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন তোলার কাজও চলছে।




বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন-বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাম হোসেন জানান, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে মোট ২২টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে চলবে ১৭টি ফেরি।

তবে গত বর্ষায় পদ্মা নদীর ভাঙনে ৫ নম্বর ঘাটসহ কয়েকটি ঘাট বিলীন হয়ে যায়। এ বছরও ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।


বিআইডব্লিউটিসির এ কর্মকর্তার ভাষ্য, নতুন ভাঙনের ঝুঁকি থাকলেও কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটে পন্টুনসংলগ্ন সড়ক কিছুটা সরু ও খাড়া হওয়ায় সেখানে সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।

এদিকে পন্টুন সংলগ্ন সংযোগ সড়ক খাড়া ও ঢালু হওয়ায় ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বাড়লে গাড়ি ওঠানামায় ভোগান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।


কুষ্টিয়াগামী বাস ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ এর চালক সৌরভ মিয়া বলছিলেন, “উচু ঢালু পন্টুনে উঠার রাস্তা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে যায়। কোনো চালক একটি পিপড়াও ইচ্ছে করে মারে না।”


ট্রাকচালক আব্দুর রহমান বলেন, “ঘাট পন্টুন থেকে মূল সড়কে ওঠার ঢাল পাহাড়সম করা হয়েছে। অনেক সময় ব্রেক কাজ করলেও গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়।”

এদিকে নদী ভাঙনে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের একটি অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় অস্থায়ী ঘাট দিয়েই ব্যবহার করে যাত্রী পারাপারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


বিআইডব্লিউটিসির উপমহাব্যবস্থাপক সালাম হোসেন মোহাম্মদ সালাম হোসেন আরো বলেন, “ঈদের সময় যাতে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”


ঈদ উপলক্ষে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচাকাজিরহাট নৌরুটে মোট ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করবে বলে লঞ্চঘাট সুপারভাইজার মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় সম্প্রতি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।


এছাড়া ঘাট সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে ২০ কোটি টাকার চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ চক্রের’ তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২

ডাকসু নির্বাচন: কে হবেন ভিপি, কে হবেন জিএস? জানা গেলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম

Govt withdraws fuel rationing