বিজয়ের সিংহাসন আরোহণে ‘নিখোঁজ’ পরিবার!
ভারতের দক্ষিণাঞ্চীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর রাজনীতির নতুন ‘থালাপাতি’ হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে উৎসবের আমেজ থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা। বিজয়ের জীবনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁর পাশে দেখা মেলেনি স্ত্রী সঙ্গীতা কিংবা দুই সন্তান জেসন সঞ্জয় ও দিব্য সাশার। ভক্তদের মতে, রাজ্যাভিষেক হলেও এই দৃশ্য যেন ‘অসম্পূর্ণ’।
মঞ্চে যখন বিজয় শপথ নিচ্ছেন, দর্শকাসনের প্রথম সারিতে সবার নজর কেড়ে নেন তাঁর ‘চর্চিত প্রেমিকা’ তৃষা কৃষ্ণান। শুধু উপস্থিতিই নয়, বিজয়ের মা শোভা চন্দ্রশেখরের ঠিক পাশেই তৃষার বসে থাকা যেন অনেক না বলা কথার জানান দিচ্ছিল। নেটিজেনদের প্রশ্ন, ‘নতুন মুখ্যমন্ত্রী, নতুন রানি?’ সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন লেখেন, ‘স্ত্রী-সন্তান নেই, কিন্তু তৃষা আছেন মায়ের পাশে! এটা কি তবে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর?’
দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্যের পর গত ফেব্রুয়ারিতে চেঙ্গলপট্টি পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছেন সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম। তাঁর পিটিশনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সঙ্গীতার দাবি, ১৯৯৯ সালে হিন্দু রীতিতে বিয়ের পর শুরুর দিনগুলো সুখের ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে বিজয়ের সাথে এক অভিনেত্রীর ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক’ জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সংসারে অশান্তির শুরু।
বিচ্ছেদের আবেদনে সঙ্গীতা অভিযোগ করেছেন, বিজয় পরিবারকে উপেক্ষা করে জনসমক্ষে অন্যকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, যা তাঁকে এবং সন্তানদের বারবার ‘হৈচৈ ও অপমানের’ মুখে ফেলেছে। আগামী ১৫ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিজয় যখন ‘আমি শ্রী জোসেফ বিজয়...’ বলে শপথ পাঠ করছিলেন, স্টেডিয়াম করতালিতে ফেটে পড়লেও অনলাইনে অনেক অনুরাগীই বিষণ্ণতা প্রকাশ করেছেন। এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, যাদের আজ মধ্যমণি হওয়ার কথা ছিল, তারাই নেই। সঙ্গীতা ও সন্তানদের অনুপস্থিতি শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলছে।
মঞ্চে বিজয়ের বাবা এস এ চন্দ্রশেখর এবং মা উপস্থিত থাকলেও ঘরের মানুষের অনুপস্থিতি এই রাজনৈতিক জয়কে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এই ‘ক্লাইম্যাক্স’ এখন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাচ্ছে। বিজয়ের এই নতুন ইনিংসের ডেরায় শেষ পর্যন্ত কে থাকবেন, সঙ্গীতা নাকি তৃষা- সেই উত্তর আপাতত সময়ের গর্ভে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


মন্তব্যসমূহ