চীনে পৌঁছেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প, পেলেন লাল গালিচা সংবর্ধনা
![]() |
| ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স |
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবতরণ করে।
গত প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে এই প্রথম দুইদিনের চীন সফরে দেশটিতে পৌঁছেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তাকে লাল গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ট্রাম্পকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবতরণ করে। এরপর ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ অন্যান্য গণমান্য ব্যক্তিরা।
ট্রাম্পের জন্য জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে বেইজিং। তাকে দেওয়া হয়েছে সামরিক গার্ড অব অনার।
বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিল চীনা শিশু-কিশোররা। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা নাড়িয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানায়। মান্দারিন ভাষায় তারা স্লোগান দেয়, ‘স্বাগতম, আন্তরিক স্বাগতম।’
এই স্লোগানের মধ্য দিয়েই লাল গালিচা ধরে হেঁটে যান ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্প ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। পরে গড়ি বহরের লিমোজিন গাড়িতে ওঠার আগে দিয়ে তিনি মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে শুভেচ্ছা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবারের সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল তার সফরসঙ্গীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একঝাঁক শীর্ষ নির্বাহী এই সফরে তার সঙ্গী হয়েছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক। এছাড়া, মেটার ভাইস চেয়ারম্যান ডিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক, ভিসার প্রধান নির্বাহী রায়ান ম্যাকলনার্নি, বোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ, ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন শোয়ার্জম্যান-সহ আরও বেশ কিছু মার্কিন কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বিবিসি-কে জানান, সবমিলিয়ে ট্রাম্পের এই সফরে ডজনেরও বেশি মার্কিন টেক কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্তকর্তারা রয়েছেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জনসমর্থনে টান পড়ায় ট্রাম্প এই সফর থেকে কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করে নিজের রেটিং পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে আছেন।
সফরের আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট শি (জিনপিং) -কে অনুরোধ করব যেন তিনি চীনের বাজার ‘উন্মুক্ত’ করে দেন, যাতে এই অসাধারণ মেধাবী মানুষগুলো তাদের জাদু দেখাতে পারেন। এটিই হবে আমার প্রথম অনুরোধ।”
দুই দিনের এই চীন সফরে ট্রাম্পের জন্য গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ রাজকীয় সংবর্ধনা, ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছে।
বাণিজ্য ছাড়াও আলোচনায় ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি করাতে চীনের সহায়তা চাইবেন ট্রাম্প। যদিও তিনি আগে বলেছিলেন যে, এ বিষয়ে তার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, বুধবারই তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির কড়া বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ বর্তমানে ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনা সফল না হলে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।
এক দশক পর ট্রাম্প যখন চীন সফরে দেশটিতে পদার্পন করেছেন, তখন সেখানে অনেক কিছুই ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। চীন এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী এবং অনেক বেশি দৃঢ়চেতা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের নেতার বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান এবং বিশ্বে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই নেতার আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহল দৃষ্টি রাখবে।

মন্তব্যসমূহ