অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা: প্রযুক্তি প্রধানদের ফের মার্কিন সেনেট কমিটিতে তলব
শিশু ও টিনএজারদের অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অবহেলার কারণে এসব প্রযুক্তি কোম্পানি বর্তমানে আমেরিকায় তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে।
প্রথম এ শুনানির খবরটি সামনে আনে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রযুক্তি প্রধানরা আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে সেনেট জুডিশিয়ারি কমিটির সদস্যরা জনসম্মুখেই তাদের সরাসরি প্রশ্ন ও জবাবদিহির মুখোমুখি করার সুযোগ পাবেন।
অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা: প্রযুক্তি প্রধানদের ফের মার্কিন সেনেট কমিটিতে তলব
শিশু ও টিনএজারদের অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অবহেলার কারণে বর্তমানে আমেরিকায় তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ কোম্পানিগুলো।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে মেটা, গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট, টিকটক ও স্ন্যাপ-এর প্রধান নির্বাহীদের আবারও মার্কিন কংগ্রেসে তলব করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রভাব ও আসক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে মার্কিন সেনেটের জুডিশিয়ারি কমিটি এ প্রযুক্তি কর্তাদের সরাসরি জবাবদিহির মুখোমুখি করতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র সেনেটের এক সূত্র মতে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাব দিতেই ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটা, অ্যালফাবেট, টিকটক ও স্ন্যাপের প্রধান নির্বাহীদের আবারও ডাকা হল।
সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান সেনেটর চাক গ্রাসলির মুখপাত্র হানা একি বলেছেন, মে মাসের শুরুর দিকেই মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ, অ্যালফাবেটের সুন্দার পিচাই, টিকটকের শো জি চিউ ও স্ন্যাপের ইভান স্পিগেলকে এ আমন্ত্রণের চিঠি পাঠিয়েছিলেন গ্রাসলি এবং শুক্রবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
শিশু ও টিনএজারদের অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অবহেলার কারণে এসব প্রযুক্তি কোম্পানি বর্তমানে আমেরিকায় তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে।
প্রথম এ শুনানির খবরটি সামনে আনে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রযুক্তি প্রধানরা আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে সেনেট জুডিশিয়ারি কমিটির সদস্যরা জনসম্মুখেই তাদের সরাসরি প্রশ্ন ও জবাবদিহির মুখোমুখি করার সুযোগ পাবেন।
সেনেট জুডিশিয়ারি কমিটির দুই সদস্য টেনেসির মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ও কানেকটিকাটের রিচার্ড ব্লুমেন্থাল তাদের সহকর্মী আইনপ্রণেতাদের নতুন এক আইন পাসের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।
এ আইনের লক্ষ্য, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ শিশু ও টিনএজারদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে সে বিষয়ে কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করা।
মার্কিন কংগ্রেস এ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো ব্যাপক বা পূর্ণাঙ্গ আইন পাস করতে পারেনি। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য নিজস্ব উদ্যোগে আইন তৈরি করছে।
মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন পর্যবেক্ষক দল নিরপেক্ষ এক সংগঠন ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স অফ স্টেট লেজিসলেচার্স’-এর তথ্য অনুসারে, গত বছরই অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্য শিশু ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বিষয়ে নিজস্ব আইন জারি করেছে।
অন্যদিকে, স্ন্যাপ, মেটা, অ্যালফাবেটের গুগল ও টিকটকের মতো কোম্পানি ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল ও স্টেট কোর্টে আলাদাভাবে হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি হচ্ছে।
মামলাগুলোতে অভিযোগ উঠেছে, এসব কোম্পানি এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্মের নকশা বা ডিজাইন করেছে, যা শিশুদের সামাজিক মাধ্যমের ওপর আসক্ত করে তুলছে ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
মার্চে জুরির সামনে আসা প্রথম মামলাটিতে মেটা ও গুগল হেরে যায়। রায়ে তাদের ৬০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। তবে টিকটক ও স্ন্যাপ বিচার শুরুর আগেই মামলার বাদীর সঙ্গে আপস করে নেয়। এ গ্রীষ্মেই এমন আরও বেশ কিছু মামলার বিচার শুরুর কথা রয়েছে।
এর আগে, এ বছরের মার্চে শিশু নির্যাতন ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার ঘাটতি সংক্রান্ত এক মামলায় নিউ মেক্সিকোর এক আদালত মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
কংগ্রেসের এ আমন্ত্রণ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে টিকটক ও গুগলের মুখপাত্ররা কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্ন্যাপ ও মেটা।
এর আগে, ২০২৪ সালে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন স্পিগেল, জাকারবার্গ ও চিউ। ওই সময় একই সিনেট কমিটি তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্রমাগত যৌন নিপীড়নের হুমকির বিষয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
সুন্দার পিচাই অবশ্য বেশ কয়েকটি সংসদীয় শুনানিতে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ২০২১ সালের ভুল তথ্য ছড়ানো সংক্রান্ত শুনানিও রয়েছে।
এদিকে, টিকটকের চিউ-এর জন্য এটিই হবে ক্যাপিটল হিলে দেওয়া প্রথম সাক্ষ্য, বিশেষ করে তার কোম্পানির চীনা মূল কোম্পানি ‘বাইটড্যান্স’ টিকটকের মার্কিন অ্যাপটিকে বৈশ্বিক ব্যবসা থেকে আলাদা করার চুক্তিটি চূড়ান্ত করার পর।
বাইটড্যান্স এ চুক্তির বিষয়ে খুব কম তথ্যই প্রকাশ করেছে। ফলে এ শুনানিটি হলে আইনপ্রণেতারা সুযোগ পাবেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এ চুক্তি করিয়ে দেওয়ার ভূমিকা এবং আমেরিকার এ অ্যাপটিতে চীনের কোনো হস্তক্ষেপ বা সম্পৃক্ততা আছে কি না সে বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার।
টিকটক যেন যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ না হয় সে উদ্দেশ্যেই আমেরিকার মালিকানাধীন এক যৌথ উদ্যোগে মার্কিন অ্যাপটি তৈরি হয়েছিল।

মন্তব্যসমূহ