ব্যারিস্টার সুমনের বন্দিদশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে ‘উদ্বেগ’
![]() |
| আদালতে সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ফাইল ছবি |
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার সুমন এখনো কারাগারে আছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে করা মামলা, তার বন্দিদশা এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডাব্লিউ) পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ।
গত বুধবার এ বিষয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে আলোচনা হয় বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান সুমনের আইনজীবীরা।
নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পার্লামেন্ট সদস্য স্টিভেন লরেন্সের দেওয়া ভাষণের একটি ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের দেখানো হয়।
স্টিভেন লরেন্স বলেন, “ডাব্বোতে বসবাসরত বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাংলাদেশের একটি ফৌজদারি মামলার বিষয়ে আমার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি বাংলাদেশের একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যারিস্টারকে কেন্দ্র করে, যিনি সৈয়দ আবু হক সুমন (ব্যারিস্টার সুমন) নামে পরিচিত।
“সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে জেনেছি, এই ব্যক্তি সততার কারণে বাংলাদেশে অত্যন্ত সম্মানিত। তিনি দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।”
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার সুমন এখনো কারাগারে আছেন।
স্টিভেন লরেন্স বলেন, “রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং খবর অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে অসংখ্য মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। তার জামিনের আবেদনগুলো নাকচ করা হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে হেফাজতে রয়েছেন।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগ ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, যা বিবিসি ও আল জাজিরাতেও কভার করা হয়েছে।”
সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সুমনের আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, “চব্বিশের ৫ অগাস্টের পর থেকে দেশে যে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে দেশের পাশাপাশি বিদেশের বাঙালি কমিউনিটিও উদ্বিগ্ন। অস্ট্রেলিয়ার বাঙালি কমিউনিটি তাদের লোকাল পার্লামেন্টে বিষয়টি জানিয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে উঠছে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।”
এই আইনজীবী জানান, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের একটি ঘটনায় সুমনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর হাই কোর্টে আবেদন করা হলে আদালত রুল জারি করে। বিষয়টি এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
সুমনের অপর আইনজীবী মোহাম্মদ খুররাম শাহ মুরাদ বলেন, “দিনের পর দিন এভাবে বিনা বিচারে রাজনীতিবিদদের আটকে রেখে হয়রানি করা দেশের জন্য শুভকর নয়। ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ কেউ আনতে পারেনি। তিনি সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। আমরা মনে করি, তার এই বন্দিদশা সম্পূর্ণ বেআইনি।”

মন্তব্যসমূহ