চীন অভিমুখী যাত্রা, কতটা মসৃণ, কতটা বন্ধুর?

 

বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে করমর্দনরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

নতুন সরকারপ্রধানের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়া কি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকনির্দেশনা? ভারত ও চীনের সংবাদমাধ্যমের ভিন্ন বয়ানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভূরাজনৈতিক সমীকরণ কী বলছে?

ক্ষমতার সঙ্গে প্রায়ই আরেকটি প্রবণতা যুক্ত হয়—আত্মতুষ্টি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। যে সরকারই শক্তিশালী সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তার প্রায় প্রতিটি উদ্যোগকে সাফল্যের অনিবার্য নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা দেখা যায়। ফলে সমালোচনামূলক মূল্যায়নের পরিসর সংকুচিত হয়, নীতিগত প্রশ্নের পরিবর্তে প্রশংসার বয়ান প্রাধান্য পায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনীয় জনআলোচনা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।

এমন একটি প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে গমন স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও কূটনৈতিক অভিমুখ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাও দেয়। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। কিন্তু সফরটি নিয়ে যতটা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি দেখা গেছে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার প্রকাশ। সফরের সুনির্দিষ্ট অর্জন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুফল এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে এখনো বিস্তৃত ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা সীমিত।

সরকারি ব্রিফিংয়েও প্রত্যাশার ভাষা অর্জনের বিশ্লেষণকে ছাপিয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে। সফরটির তাৎক্ষণিক অর্জন কী? যৌথ ঘোষণায় উল্লিখিত উদ্যোগগুলোর কতগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে? এবং পরিবর্তিত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত পরিবেশে এই সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, নাকি নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সংকটও তৈরি করবে?

গত এক দশকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের অবস্থান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, তিস্তার পানি বণ্টনের অমীমাংসিত প্রশ্ন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা, বাণিজ্যগত ভারসাম্যহীনতা এবং সাম্প্রতিক ‘পুশ-ব্যাক’ বিতর্ক—সব মিলিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি কিছুটা দুর্বল হয়েছে। এই বাস্তবতায় চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন গতি নয়াদিল্লির বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করাই স্বাভাবিক।

ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে সংযত অবস্থান নিলেও দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের আলোচনায় বিষয়টি উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব পেয়েছে। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ ও ‘দ্য হিন্দু’ প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে ভারতের পরিবর্তে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়াকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের প্রতীকী ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে। অন্যদিকে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ঢাকা–নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন। ফলে তাদের বিশ্লেষণে চীন সফরকে ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে নয়; বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের বিশেষ মনোযোগ ছিল বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে। মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে তারা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের আলোকে মূল্যায়ন করেছেন। বিশেষ করে তিস্তা ইস্যুতে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততাকে নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম যেখানে সফরটিকে প্রধানত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছে, সেখানে চীনা সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া সফরটিকে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের সংলাপ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে ‘গ্লোবাল টাইমস’ অবকাঠামো, শিল্প, বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ প্রযুক্তি এবং নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন-অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

চীনা ভাষ্যে সফরের অন্যতম অর্জন হিসেবে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়েছে যে, বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ককে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, পারস্পরিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কাঠামোয় মূল্যায়ন করার ব্যাপারে।

ভারত ও চীনের সংবাদমাধ্যমের এই ভিন্ন বয়ান মূলত দুই দেশের নিজ নিজ কৌশলগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। ভারত যেখানে সফরটির সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে চীন উন্নয়ন, সংযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামনে এনেছে।


এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উঠে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলগত সংলাপ চালুর বিষয়ে সম্মতি। পাশাপাশি কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার লক্ষ্যে ‘২+২ সংলাপ ব্যবস্থা’ চালুর সম্ভাবনা যৌথভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


‘২+২ সংলাপ’ এমন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, যেখানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়মিত বৈঠকে অংশ নিয়ে কৌশলগত সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমন্বয় করেন। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র, ভারত-জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশের মধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

বর্তমানে কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ২+২ সংলাপ চালু নেই। ওই বিবেচনায় চীনের সঙ্গে এ উদ্যোগ, তুরস্কের সঙ্গে চলমান অনুরূপ আলোচনার মতোই, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এটিকে কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সমার্থক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নীতিগত সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমন্বয়ের একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা।

যৌথ ঘোষণায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পারস্পরিক সফর, কর্মকর্তা ও সামরিক সদস্যদের বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংলাপকে আরও নিয়মিত ও কার্যকর করারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।


অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার, সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনাও যৌথভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যৌথ ঘোষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের এক-চীন নীতির প্রতি পুনরায় অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’-সংক্রান্ত যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে চীনের জাতীয় পুনরেকত্রীকরণ প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে যৌথ ঘোষণার বিষয়বস্তু থেকে স্পষ্ট যে, সফরটি শুধু কয়েকটি অর্থনৈতিক সমঝোতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত—সব ক্ষেত্রেই আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি প্রচেষ্টা। তবে এসব ঘোষণার প্রকৃত গুরুত্ব শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এবং বাংলাদেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য রক্ষার সক্ষমতার ওপর।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত তাৎক্ষণিক অর্জনের চেয়ে এর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত তাৎপর্য। যৌথ ঘোষণায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সংলাপ, নদী ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের যে রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন সংযোগের সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাস্তবতার আরেকটি দিকও রয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্প, বন্দর, নদী ব্যবস্থাপনা বা আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগগুলো শুধু অর্থনৈতিক প্রকল্প হিসেবেই বিবেচিত হবে না; এগুলো বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণেরও অংশ হয়ে উঠতে পারে।

মোংলা বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা কিংবা সম্ভাব্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন সংযোগ—এসব উদ্যোগে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা স্বাভাবিকভাবেই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য অংশীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তারা এসব উদ্যোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে এবং এর ফলে আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

অবশ্য এটিও মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করাই অপরিহার্যভাবে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সমার্থক নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘদিনের মূল ভিত্তি ছিল—‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই নীতির প্রয়োগ আরও জটিল হলেও এর প্রাসঙ্গিকতা কমেনি।

পররাষ্ট্রনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী প্রতিপক্ষের চেয়ে স্থায়ী হয় জাতীয় স্বার্থ। তাই চীনের সঙ্গে সহযোগিতা যেমন বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গেও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন যেন অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় দূরত্বের কারণ না হয়—এ বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রজ্ঞার অন্যতম পরীক্ষা হয়ে থাকবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ চক্রের’ তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২

ডাকসু নির্বাচন: কে হবেন ভিপি, কে হবেন জিএস? জানা গেলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম

প্রতি বছর ৫০০ কোটি কন্ডোম তৈরি করে এই সংস্থা। কিন্তু হরমুজ বন্ধে পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবে লাটে ওঠ