সড়ক ছাড়লেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত নাহলে ‘লং মার্চ’

 

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে রাজধানীতে দিনভর আন্দোলনকারী এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেছেন।


মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের পর তারা সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সরে যান; এরপর সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


কর্মসূচি শেষ করার আগে বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা না হলে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

রাত সাড়ে ৯টায় ব্রিফিংয়ে ঢাকা সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাজ বলেন, “দাবিগুলো আজকে দেখেছি মেনে নেওয়া হয়নি। মূল দাবিগুলোর কিছুই মেনে নেওয়া হয়নি। আমরা বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত চাই আজকে (মঙ্গলবার) রাতের মধ্যেই।


“একইসঙ্গে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাচ্ছি। কারণ আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব একজন শিক্ষামন্ত্রী চাচ্ছি। আমাদের দাবি যদি মেনে নেওয়া না হয়, যদি বুধবারের পরীক্ষায় বসতে হয়, তাহলে আমরা ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ পালনের ঘোষণা দিলাম।”

বুধবারের পরীক্ষা নিয়ে রাজ আরো বলেন, “বুধবার যদি পরীক্ষায় বসতে হয়, তাহলে আমরা একটা অখুশি মনে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করব। আমরা পরীক্ষা দিব তা বলিনি, আমরা বলছি যদি পরীক্ষায় বসতে হয়। কারণ সরকার পরে বলবে (পরীক্ষা না দিলে) আমরা ফেইল।”

আন্দোলনকারীদের ৩ দাবি


দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান দুর্যোগের (অতি বৃষ্টিতে বন্যা) প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।

‎বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ।

এসব দাবি নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় ও সংসদ ভবনের সামনে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে ওই এলাকার সড়কে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল গেইটের সামনে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। সেখান থেকে আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন। পরে পলাশী মোড় হয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের দিকে রওনা দেন। সেখানে আধাঘণ্টা অবস্থান করেন।


তখন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আলোচনার প্রস্তাব দিলে আন্দোলনকারীরা তাতে সায় না দিয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবরোধ করেন। সেখান থেকে তারা যান সংসদের সামনে। উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে সড়ক আটকে ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে তার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে আন্দোলনরতদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এর পৌনে দুই ঘণ্টা পর রাত সোয়া ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা আবারো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হয়ে রাস্তা বন্ধ করেন দেন।


রাত সাড়ে ৯টায় আন্দোলনকারীরা দিনের কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ চক্রের’ তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২

ডাকসু নির্বাচন: কে হবেন ভিপি, কে হবেন জিএস? জানা গেলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম

প্রতি বছর ৫০০ কোটি কন্ডোম তৈরি করে এই সংস্থা। কিন্তু হরমুজ বন্ধে পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবে লাটে ওঠ