ভারতে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ করার পর শত শত তরুণের হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশের নোটিশ
![]() |
| ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র জনসমাগম। ছবি: এএনআই |
গত সোমবার বিক্ষোভ চলাকালে অনেককে আটক ও পরে ছেড়ে দিলেও মঙ্গলবার ভোররাত থেকে তাদের ফোনে হাজিরার এই নির্দেশ আসতে শুরু করে।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট'-এ প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে মুম্বাইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় কয়েকশ তরুণ-তরুণীকে হোয়াটসঅ্যাপে নোটিশ পাঠিয়েছে পুলিশ।
গত সোমবার বিক্ষোভ চলাকালে অনেককে আটক ও পরে ছেড়ে দিলেও মঙ্গলবার ভোররাত থেকে তাদের ফোনে হাজিরার এই নির্দেশ আসতে শুরু করে। ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, এটি তরুণদের ভয় দেখানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩৫(৩) ধারার অধীনে এই নোটিশগুলো জারি করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যেসব অপরাধের সাজা সাত বছরের কম, সেক্ষেত্রে অভিযুক্তকে সরাসরি গ্রেপ্তার না করে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে নিট পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনায় পুলিশ অন্তত সাতটি এফআইআর দায়ের করেছে, যেখানে ৩০০ জনের বেশি মানুষের নাম রয়েছে। এছাড়া শিবাজি পার্কের বাইরে বিক্ষোভ করায় আরও ৬০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০০-তে।
শিবাজি পার্ক থানার একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিএনএসএস-এর বিধান অনুযায়ী নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া মুম্বাইয়ের এক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়া সুব্রমানিয়াম জানান, মঙ্গলবার রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা আসে, যেখানে তাকে শিবাজি পার্ক থানায় হাজির হতে বলা হয়। তিনি বলেন, 'সোমবার বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় প্রতিবাদ করায় আমাকে আটক করা হয়েছিল। আমরা ভাবিনি বিষয়টি এতোদূর গড়াবে। একজন আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রক্রিয়াটি বুঝলেও, সাধারণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে মধ্যরাতে পুলিশের নোটিশ পাওয়া অত্যন্ত ভীতিকর অভিজ্ঞতা।'
শ্রেয়া আরও বলেন, 'মেডিকেল এমন একটি পেশা যেখানে মেধার সঙ্গে কোনো আপস করা চলে না। আমরা যদি আজ এই অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন না তুলি, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে।'
ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, এতো বড় পরিসরে সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের নোটিশ পাঠানোর ঘটনা নজিরবিহীন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এআইএসএফ) আমির কাজি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র মাহিম থানা থেকেই ১০০টির বেশি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'সাধারণত পুলিশ বিক্ষোভের আয়োজক বা সক্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু এবার সাধারণ অংশগ্রহণকারীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে মূলত তরুণদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য।'
এদিকে একদল আইনজীবী পুলিশি পদক্ষেপের শিকার হওয়া এসব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। 'মুম্বাই অ্যাগেইনস্ট সাপ্রেশন অফ স্টুডেন্টস' (এমএএসএস) নামক একটি ছাত্র মোর্চা পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি শিক্ষার্থীদের ভিন্নমত দমনে আইনের নগ্ন অপব্যবহার।

মন্তব্যসমূহ