মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসে আটক রাহুল-অখিলেশরা! থানায় গেলেন সনিয়া, উদ্ধব যন্তর মন্তরে, নতুন করে অশান্তি
![]() |
| ধর্নাস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাহুল গাঁধীকে। — ফাইল চিত্র। |
দিল্লিতে সোমবার ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অদূরে ধর্নায় বসেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং প্রিয়ঙ্কা বঢরা গাঁধী-সহ কংগ্রেস সাংসদেরা। পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, শরদ পওয়ারপন্থী এনসিপির সুপ্রিয়া সুলেও সেখানে গিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোককল্যাণ মার্গের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ না করার জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ মারফত বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি শুরু করার সন্ধ্যায় রাহুলদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির মার্গ থানায়। এর পরে সেখানে হাজির হন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন
মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার অশান্ত হয়েছিল দিল্লি। পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের বাধা কাটিয়ে সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার অশান্ত হয়েছিল দিল্লি। পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের বাধা কাটিয়ে সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও। সিজেপি এবং বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী। (পুলিশের হিসেবে আহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অবশ্য ৬০) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা মঙ্গলবার দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া (আরএলএম) হাসপাতাল এবং লেডি হার্ডিঞ্জসনিয়া গাঁধী, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরেরা। শেষ পর্যন্ত রাতে রাহুলদের মুক্তি দেয় পুলিশ।
সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষের পর দিল্লির পরিস্থিতির উপর নজরদারি কড়া করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরে সিজেপির অবস্থান মঞ্চের আশপাশেও পুলিশি মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। তবে সোমবার আটক সিজেপি সমর্থকদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে সিজেপি। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে যন্তর মন্তরে নতুন করে সিজেপি সমর্থকেরা ইট-পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ। প্রসঙ্গত, ৬ জুন থেকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে সিজেপি। তাদের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। ওই মঞ্চেই গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ১৮ জুন বিক্ষোভস্থল থেকে সাদা
মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। দেখা করেন আহত পড়ুয়াদের সঙ্গে। অন্য দিকে, রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কাও আরএমএল হাসপাতালে আহত ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করেন।
কী বললেন বিরোধী নেতারা
মন্দির মার্গ থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে প্রিয়ঙ্কা বলেন, ‘‘যদি বিরোধী দলের নেতা সংসদে কথা বলতে চান, তাঁকে বলতে দেওয়া হয় না। আমরা যদি বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য অনুমতি চাই, সেই অনুমতিও দেওয়া হয় না। তাই আমরা এমন একটি জায়গায় গিয়েছিলাম, যেখানে তাঁরা (সরকারপক্ষ) আমাদের উপস্থিতি সবচেয়ে কম প্রত্যাশা করেছিলেন।’’ অখিলেশ বলেন, ‘‘সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া। আর সরকার ছাত্র-যুবকদের প্রতি যে অবিচার করেছে— যে ভাবে তাদের মারধর করা হয়েছে, তাদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে, এমনকি ছাত্রীদের কাপড়ও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এটাই কি গণতন্ত্রে একটি সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ? তা-ও আবার একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সময়। আমরা
পোশাকের পুলিশ সোনমকে তুলে নিয়ে যায়। ভর্তি করানো হয় সফদরজঙ্গ হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালেও তাঁর অনশন ভাঙানো যায়নি। মঙ্গলবার সোনমের হাসপাতাল বদলের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। আর তা নিয়ে কোনও আপত্তি জানায়নি কেন্দ্রও। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করে ওয়াংচুকের চিকিৎসা করাতে হবে।
এই বিষয়টি আইনসভায় উত্থাপন করব।’’
কী দাবি রাহুলদের
দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসার আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল এক্স পোস্টে লেখেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের উপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের উপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী মনে করেন যে, তিনি কোনও জবাব না দিয়েই, কোনও পরিণতির মুখোমুখি না হয়েই পার পেয়ে যাবেন— পারবেন না, এবার তো একেবারেই না। আমি প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়ের কাছে আবেদন জানাই— যিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত, প্রধানমন্ত্রী আবাসনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যায় না।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের
কাছে চার দফা দাবি জানিয়ছিলেন রাহুলেরা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পাশাপাশি, পুলিশি অত্যাচারের দায়স্বীকার করে মোদী সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানান কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু সেই দাবি মানার বার্তা দেয়নি মোদী সরকার।
মন্ত্রী জিতেন্দ্রের তৎপরতা ও সাফাই
প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোককল্যাণ মার্গের বাংলোর অদূরে ধর্না-বিক্ষোভ শুরু করার পরে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের অন্তর্গত ওই এলাকা থেকে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি। এর পরে ধর্নাস্থল থেকে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে আবার লোককল্যাণ মার্গে ফিরে যান জিতেন্দ্র। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। ধর্নার প্রত্যাহারের জন্য শাহের বার্তার কথা জানান কংগ্রেস নেতৃত্বকে। কিন্তু তাতেও ‘বরফ গলেনি’। জিতেন্দ্রের দাবি, সরকারের তরফ থেকে কংগ্রেসের প্রাথমিক দাবি (সংসদে নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আলোচনা) মানার কথা জানানো হয়েছিল।
কিন্তু তার পরে অতিরিক্ত শর্ত দেওয়া হয় রাহুলদের তরফে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় থাকেন তাঁরা। সেই দাবি মানা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
হাসপাতাল বদল ওয়াংচুকের
দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সফদরজঙ্গ হাসপাতাল ছুটি দিয়েছে সোনম ওয়াংচুককে। তাঁকে গুরুগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সফদরজঙ্গ হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, ছুটির সময়ে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে
।মঙ্গলবারই দিল্লি হাই কোর্ট জানায়, টানা ২৪ দিন অনশনের জেরে অসুস্থ সোনম তাঁর পছন্দের হাসতালেই চিকিৎসা করাতে পারবেন। তা নিয়ে কোনও আপত্তি জানায়নি কেন্দ্রীয় সরকারও। তার পরেই সফদরজঙ্গ হাসপাতাল থেকে ছুটি হয় সোনমের। হাসপাতালের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে সোনমকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে গুরুগ্রামের হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও। দিল্লি হাই কোর্টের ২১ জুলাইয়ের নির্দেশ মেনে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো আদালতে আবেদন করেন, যন্তর মন্তরে দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সেই কারণেই সফদরজঙ্গ হাসপাতালের বদলে তাঁরা মেদান্ত হাসপাতালে সোনমকে স্থানান্তর করতে চান। আদালত জানায়, ‘‘সোনমকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হোক। সেখানে তাঁর চিকিৎসা হবে। সফদরজঙ্গ হাসপাতালে এত দিন যে চিকিৎসা হয়েছে, তার সমস্ত নথি, রিপোর্ট এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য মেদান্ত হাসপাতালে পাঠাতে হবে।’’একই সঙ্গে মেদান্ত হাসপাতালকে ওয়াংচুকের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেল গঠনের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। সফদরজঙ্গ হাসপাতাল থেকে সোনমকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে রবিবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গীতাঞ্জলি। জরুরি ভিত্তিতে সেই শুনানি হয়। সোনমের স্ত্রী জানান, হাসপাতাল
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করছেন। তাই তাঁদের উপর আর তাঁর ভরসা নেই।








মন্তব্যসমূহ