ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটির প্রতিবেদন: নতুন সরকারকে স্বাগত, চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অমীমাংসিত পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভিসা কার্যক্রমের মত বিষয়গুলোতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেখছে ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। তবে একই সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে দিল্লির উদ্বেগও উঠে এসেছে তাদের প্রতিবেদনে।
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং কৌশল নির্ধারণে এই বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অমীমাংসিত পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভিসা কার্যক্রমের মত বিষয়গুলোতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত ‘পরিমিত ও হিসাব-নিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি’ অনুসরণ করে।
তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি ভারত ‘ইতিবাচকভাবে’ গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে টেলিফোনে কথা বলে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বার্তা হস্তান্তর করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পার্লামেন্টারি কমিটি ভারতের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছে, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে’ সমাধান করার জন্য এটি একটি ‘দারুণ সুযোগ’।
শেখ হাসিনার অবস্থান
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের আদালতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয় এবং বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ‘মানবিক বিবেচনা ও ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার’ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে বলেছে, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনুরোধটি ‘পর্যালোচনা’ করছে।
চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান ‘অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত’ সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি চীনের সহায়তায় উন্নত করা হচ্ছে, যা ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য একটি ‘বড় শঙ্কার কারণ’ বলে পার্লামেন্টারি কমিটি মনে করছে।
পাশাপাশি পেকুয়ায় চীনের সহায়তায় নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটি নিয়ে উদ্বেগের কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
কমিটি ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে যেন তারা বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির কার্যকলাপ ‘গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ’ করে এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়।
একইসঙ্গে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে কয়েকজন ‘অপরাধী ও উগ্রপন্থি’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা বর্তমানে বাংলাদেশে “ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে,” যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য “মারাত্মক হুমকি” সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদনে বরা হয়, এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও অগাস্টে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
এ ছাড়া ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮৬৪ কিলোমিটার এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়ার আওতার বাইরে রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
সে কারণে দুর্গম ও নদীবেষ্টিত এসব এলাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে লেজারভিত্তিক অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, স্মার্ট সেন্সরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা
২০২৪ সালের অগাস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘একটি স্পর্শকাতর বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে পর্লামেন্টারি কমিটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪৬টি হামলার তথ্য কমিটির নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭০ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৮৮টি মামলা দায়েরের তথ্য বাংলাদেশ জানিয়েছে।
কমিটির পর্যবেক্ষণ হল, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
গঙ্গা ও তিস্তা
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ যে এ বছরই শেষ হতে যাচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে এ চুক্তির নবায়নকে দুই দেশের ‘অন্যতম অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
কমিটি গঙ্গা চুক্তির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে শিগগিরই এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার তাদের সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর (বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ) সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় যা সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং সবার স্বার্থ রক্ষা করবে।
ভিসা কার্যক্রম ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি।
চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি ভারতে যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ১৬ লাখের বেশি ভিসা ইস্যু করেছিল।
তবে ২০২৪ সালের অগাস্টের পর ‘নিরাপত্তার কারণে’ ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে ভারতীয় কর্মীদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভিসা কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে বলে কমিটিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসা-সংক্রান্ত।
কমিটি চিকিৎসার জন্য ভিসা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম চালু থাকায় দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বাণিজ্য: সাফটা সুবিধা, সেপা চুক্তি ও চীনা পণ্যের প্রসঙ্গ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় ভারতে অধিকাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা ভোগ করছে।
তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এ সুবিধার অবসান ঘটতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সেপা) আলোচনা দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সময়ে এ আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সাফটা সুবিধার ‘অপব্যবহার করে’ বাংলাদেশের মাধ্যমে চীনের কিছু পণ্য, বিশেষ করে বস্ত্র, ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে পণ্যের 'রুলস অব অরিজিন' বা উৎপত্তি যাচাই ব্যবস্থা আরও কঠোর করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
উন্নয়ন প্রকল্প ও ঋণ সহায়তা
ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে পার্লামেন্টারি কমিটি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৫ ও ৬ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২৩তম এলওসি পর্যালোচনা বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রাক্-বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকা ১২টি প্রকল্প বাতিল হওয়ার কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে আটটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
কমিটির মতে, উন্নয়ন সহযোগিতার প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
১৯৭১, জনসম্পৃক্ততা ও তথ্যযুদ্ধ
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গও প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে।
কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর বয়ান’ ছড়িয়ে পড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, গবেষক, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও নীতিনির্ধারকদের সম্পৃক্ত করে 'ট্র্যাক ১.৫' এবং 'ট্র্যাক ২' কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ‘ভারতবিরোধী ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ মোকাবিলায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ