বুধবার রুটিন অনুযায়ী ৫৯ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা হবে

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা


 শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে দিনভর আন্দোলন করেছেন এইচএসসি ও সমমানের একদল পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করে ঘরে ফিরেছেন। তবে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে এখনো অনড় তারা। এ নিয়ে রাতেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন।


দিনভর আন্দোলন, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর পড়ার টেবিলে নেই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার এইচএসসি পরীক্ষা হবে নাকি স্থগিত, তা নিয়ে দ্বিধা ও সংশয়ে রয়েছেন তারা।

তবে শিক্ষা বোর্ড বলছে, আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বোর্ডের ৫ জেলা বাদে বাকি বোর্ডগুলোর অধীন ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ পরীক্ষা স্থগিত নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে রুটিন অনুযায়ী ১৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা হবে।

সময়সূচি অনুযায়ী আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে (চট্টগ্রাম বাদে) এদিন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রামের ৫ জেলা বাদে ৫৯ জেলায় আলিম পরীক্ষা হবে। আলিমে বুধবার আরবি সাহিত্য দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৫৯ জেলায় ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।


বুধবারের পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরাই দ্বিধাবিভক্ত

এদিকে, একটি পক্ষ পরীক্ষা স্থগিত চাইছেন। অন্যপক্ষ ভিন্নমত পোষণ করেছেন শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ। তাদের মতে, আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ ছিল না। অনেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এ অবস্থায় পরীক্ষা স্থগিত না করে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া দরকার।

ইশরাত জাহান নামে ঢাকার এক পরীক্ষার্থী জানান, কোনোভাবেই পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত হবে না। শিক্ষামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমরা পরীক্ষা দিতে চাই।


আহসান হাবীব নামে আরেক পরীক্ষার্থী অবশ্য পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, দিনভর আন্দোলন, পুলিশের লাঠিচার্জ, শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ- সবমিলিয়ে মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা কন্টিনিউ করা হলে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে যেতে পারে। পরীক্ষা স্থগিত করে আন্দোলন থামানো উচিত।

বুধবার পরীক্ষা হবে নাকি স্থগিত থাকবে সে বিষয়ে জানতে রাত ১১টার দিকে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সভাপতি এবং ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে কল করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও কর রিসিভ করেননি।

রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী রাতে বলেন, এখনো পরীক্ষা স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। সে হিসেবে আগামীকাল (১৫ জুলাই) রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ চক্রের’ তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২

ডাকসু নির্বাচন: কে হবেন ভিপি, কে হবেন জিএস? জানা গেলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম

প্রতি বছর ৫০০ কোটি কন্ডোম তৈরি করে এই সংস্থা। কিন্তু হরমুজ বন্ধে পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবে লাটে ওঠ