আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী
![]() |
| আদালতে হাজির সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ফাইল ছবি: টিবিএস |
শাপলা চত্বরের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন।
বিচারকাজ প্রায় শেষ, বিচারকেরাও এজলাস ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে কয়েকবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও তিনি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। পরে তিনি বলেন, 'আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি।'
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এজলাসকক্ষ ছাড়ার আগে লতিফ সিদ্দিকী এ কথা বলেন।
এর আগে, এদিন দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
এর আগে, এদিন দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
পরে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় আদালতকক্ষে কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
আদেশ ঘোষণার আগে লতিফ সিদ্দিকী আদালতে বক্তব্য দিতে চান বলে তার আইনজীবী আবেদন করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
এরপর কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, 'মহামান্য আদালত, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
লতিফ সিদ্দিকী কয়েকবার একই কথা বললে ট্রাইব্যুনাল বলেন, 'কে কথা বলছে? তাকে কথা বলার জন্য কে অ্যালাউ করেছে? আজকের মতো এখানেই স্টপ।'
এ সময় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, 'হায়রে হায় হায়! এই যদি হয় আদালত, আমি কোথায় যাই!'
এরপর পুলিশ সদস্যরা তার কাছ থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এজলাস ত্যাগ করার পর পুলিশ সদস্যরা লতিফ সিদ্দিকীকে বসতে বললে তিনি বলেন, 'চুপ, আমি বসব কী দাঁড়িয়ে থাকব, এটা আমার ব্যাপার।'
এরপর তিনি বলেন, 'আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।'
আর এসব বলতে বলতেই এজলাসকক্ষ ছাড়েন লতিফ সিদ্দিকী।
তবে এদিন তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কিছুটা বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়। কাদের সিদ্দিকী একপর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে, পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আসামিপক্ষের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়।
শাপলা চত্বরের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন।

মন্তব্যসমূহ