ইতালিকে আবার চূড়ায় ফেরানোর স্বপ্ন নতুন কোচ মানচিনির
![]() |
| চার বছরের চুক্তিতে ইতালির ডাগআউটে ফিরেছেন রবের্তো মানচিনি। ছবি: রয়টার্স |
সেই সঙ্গে সমর্থকদের মন জয় করতে চান এই ইতালিয়ান এবং আশা করেন, পুরনো ভুলের জন্য দেশের মানুষ তাকে ক্ষমা করে দিবে।
আট বছর আগে ইতালি বিশ্বকাপের বাছাই উতরাতে ব্যর্থ হওয়ার পর, হতাশাগ্রস্ত দলটিকে দ্রুতই পথে ফিরিয়েছিলেন রবের্তো মানচিনি। এমনকি দলটিকে লম্বা একটা সময়ের জন্য অপ্রতিরোধ্যও করে তুলেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে স্বদেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া অভিজ্ঞ এই কোচের সামনে এখন আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ, টানা তিনবার যে বিশ্বকাপে উঠতে পারেনি দলটি। তবে দৃঢ় কণ্ঠে, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আবারও সেরার কাতারে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন মানচিনি।
২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পার হতে ব্যর্থ হওয়ার পর, পথহারা ইতালির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মানচিনি। তার হাত ধরে সেই দলই ২০২১ সালে জিতেছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, হয়ে উঠেছিল তিন বছর ও রেকর্ড ৩৭ ম্যাচের অপরাজিত দল, যে রেকর্ড সম্প্রতি ভেঙে দেয় স্পেন।
এবার আরও ছন্নছাড়া দলকে চেনা পথে ফেরানোর মিশন নিয়ে, চার বছরের চুক্তি করেছেন মানচিনি। চুক্তির পর, প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দলকে কেবল বিশ্বকাপে ফেরানোই নয়, বড় ট্রফি জয়ের স্বপ্নও দেখালেন তিনি।
আমরা চার বছরের চুক্তি সই করেছি, এবং আমি আশা করি, দলকে গুরুত্বপূর্ণ একটা ট্রফি জেতাতে পারব, এমনকি দুটিও সম্ভব, এবং সম্ভব হলেও এরপরও আমরা সাফল্যের ধারায় এগিয়ে যাব।”
২০২৩ সালে হঠাৎ করেই ইতালির কোচের পদ ছেড়ে মানচিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন সৌদি আরবের। তাই তিনি বুঝতে পারছেন, সমর্থকদের মন জয় করাও তার জন্য হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
“এটাকে আমি দারুণ একটা দলে পরিণত করার চেষ্টা করব এবং তারা এতটাই সুন্দর ও ভালো ফুটবল খেলবে যে সমর্থকরা এর প্রেমে পড়ে যাবে এবং তখন হয়তো তারা (আগের ঘটনার জন্য) আমাকে ক্ষমা করে দিবে। আমি এই আশাই করি।”
বর্তমান ইতালি দলে প্রতিভার কমতি নেই বলেই বিশ্বাস করেন মানচিনি। সবাইকে কেবল এক সুতোয় বেঁধে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী দল গড়ে তোলায় তার মূল কাজ হবে। এছাড়া, দেশের ক্লাবগুলোকে তরুণ ফুটবলারদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বানও জানালেন কোচ।
জাতীয় দলকে ছন্দে ফেরাতে প্রথমে কার্লো আনচেলত্তিকে প্রস্তাব দেয় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। এরপর পেপ গুয়ার্দিওলার নাম নিয়ে চলে জোর আলোচনা; কিন্তু তিনিও ‘না’ বলে দেন। কয়েকদিন শোনা যায় আন্দ্রেয়া পিরলোর কোচ হওয়ার গুঞ্জন। কিন্তু রাশিয়ান একটি বেটিং কোম্পানির সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায়, সেই প্রক্রিয়াও ভেস্তে যায়।
এরপরই আসে মানচিনির নাম এবং দ্রুতই সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়।
বছরের পর বছর ধরে একের পর এক ব্যর্থতার কারণে অনেক সমর্থকও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। তাই, এক্ষেত্রেও সমর্থকদের মন জয় করার কথা আবার বললেন মানচিনি।
“দুটি জিনিস আমি খুব করে চাই। প্রথমত চাই, ইতালিয়ান সমর্থকরা যেন আবারও জাতীয় দলকে ভালোবাসে। দ্বিতীয়ত, আমার ১২ বছরের নাতির মতো যারা কখনও ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি, তাদেরকে সেটা দেখার সুযোগ করে দিতে।”
দ্বিতীয় মেয়াদে ইতালির প্রধান কোচ হিসেবে মানচিনির প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে নেশন্স লিগের ম্যাচ; রোমে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তার দল। এরপর, আরেকটি হোম ম্যাচে তারা খেলবে তুরস্কের বিপক্ষে, বোলোনিয়ায়।
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদ থেকে পাওলো মালদিনি আচমকা সরে যাওয়ার পর, তার জায়গায় অভিজ্ঞ কোচ ক্লাওদিও রানিয়েরিকে নিয়োগ দিয়েছেন ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জিওভান্নি মালাগো।

মন্তব্যসমূহ