পশ্চিমবঙ্গ ধর্মতলায় ছাত্র-মিছিলে অশান্তি, ৭০ জন অ-ছাত্র চিহ্নিত, প্রথম প্রয়োগ হল গুন্ডাদমন আইন! তিন পুরুষ মনে রাখবে: শুভেন্দু রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইন প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাঁদের তিন পুরুষ মনে রাখবেন।



রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইন প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাঁদের তিন পুরুষ মনে রাখবেন।



শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মামলা হয়েছে সাতটি। তার সঙ্গে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাঁদের তিন পুরুষ মনে রাখবেন।

শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের আঁচ লেগেছে কলকাতাতেও। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। সেখান থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকেরাও। তা নিয়ে শনিবার বিধানসভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, পুলিশকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ফাঁদে পা দেয়নি।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইন যোগ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। তেমনই নির্দেশ দেওয়া ছিল। তারা কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। মিছিল হচ্ছিল। ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসার পর সেখান থেকে জুতো আর বোতল ছোড়া শুরু হয়। সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। চাইছিল, পুলিশ লাঠিচার্জ করুক, নাটক চলুক। কিন্তু পুলিশ সেই সুযোগ দেয়নি। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।’’

শুভেন্দু জানান, যে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁরা কেউ ছাত্র বা সিজেপি-র সদস্য নন। নিট-আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’র নাম করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তনবীর এবং নিজাম, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুন্ডার নাম বললাম। গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে এক দিন নয়, গুন্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে। এই জন্যই এই আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে।’’

সিজেপি-র কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা আদৌ ছাত্র কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে শনিবার মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বিজেপি বিধায়কেরা কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানাবেন। শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগই ছিল সংবাদমাধ্যমের তরফে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। মূলত বেআইনি জমায়েত, হিংসা, জমায়েত থেকে অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা দেওয়া, অশান্তিতে উস্কানির ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ চক্রের’ তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২

প্রতি বছর ৫০০ কোটি কন্ডোম তৈরি করে এই সংস্থা। কিন্তু হরমুজ বন্ধে পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবে লাটে ওঠ

সোমবার বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী