নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কেন এই বিপর্যয়কর আকস্মিক বন্যা?
![]() |
| নেপাল বন্যা। ছবি: রয়টার্স |
নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এমন কিছু ছবি দেখেছেন যা থেকে মনে হয় তিব্বত অংশের একটি পাহাড় থেকে বিশাল এক খণ্ড বরফ ধসে পড়ে পাথর ও পলিমাটি নিচে নামিয়ে এনেছে।
তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হড়পা বানে বুধবার নেপালে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এখনও ৫ শতাধিক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। আরও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক ডজন সেনা, পুলিশ সদস্য ও বিদ্যুৎকর্মীও।
হিমালয় অঞ্চলে এমন বিপর্যয়কর কোনও বন্যা যখন ঘটে তখন সঙ্গে সঙ্গেই মনে যে প্রশ্নটি জাগে তা হল, এর কারণ কি? আর সমস্যাটা হল এর সঠিক উত্তরটি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না।
তিব্বতসহ হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় যেখানে মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে, সেখানে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখন ঘটবে তা বলা মুশকিল। আর সেটিই এই হড়পা বানের কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
ওদিকে, বিশেষজ্ঞরা স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখে বন্যার কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। যদিও এবার মৌসুমি মেঘের কারণে তারা খুব পরিস্কারভাবে কিছু দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন।
তবে নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এমন কিছু ছবি দেখেছেন, যা থেকে মনে হয় তিব্বত অংশের একটি পাহাড় থেকে বিশাল এক খণ্ড বরফ (সম্ভবত হিমবাহের একটি অংশ) ধসে পড়েছে এবং সেটিই পাথর ও অন্যান্য পলিমাটি নিচে নামিয়ে এনেছে।
পাথর এবং বরফ নিচে পড়ার সময় দুয়ের মধ্যকার ঘর্ষণের কারণে সেখানে কিছু পরিমাণ পানি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলেই অভিমত এই কর্মকর্তাদের।
বরফধসের জেরে পাথর ও বরফের স্তূপ নিচের লেহন্দে নদীর ওপর পড়ে প্রাথমিকভাবে অবরুদ্ধ হয়েছিল নদীটির গতিপথ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নদীর জমে যাওয়া পানির চাপে সেই অবরোধ ভেঙে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় হড়পা বান।
চীনের কয়েকজন নেপালি শিক্ষাবিদ বলেছেন যে, কিছু চীনা বিশেষজ্ঞও তাদেরকে একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক্সে এক পোস্টে একে নেপালের ভূমিধস বলে অভিহিত করেছে।
এর আগে হিমবাহ হ্রদ ধসে এই বন্যার সৃষ্টি কিনা তা নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছিল, তবে কিছু হিমবাহ বিজ্ঞানী সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
স্পষ্ট স্যাটেলাইট ছবি পাওয়া গেলে এবং একাধিক উৎস থেকে তা যাচাই করা গেলে তবেই বন্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটে কোশি নদীতে হড়পা বান নামে। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থ বলছেন, লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জমা পানি পাথর ফেটে বেরিয়ে ভোটেকোশীতে পড়ে বিপর্যয় ঘটিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ বলছে, হড়পা বান এসেছিল চীন-অধিকৃত তিব্বতের দিক থেকে। কায়স্থ বলেন, “নেপালের দিক থেকে তুষারধস নেমে সীমান্তবর্তী এলাকায় লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে
২০২৫ সালের জুলাই মাসেও ভোটে কোশি নদীতে একই ধরনের হড়পা বান হয়েছিল। সে সময় অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাসুয়ায় নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহের হ্রদ ফেটে যাওয়য় লেহন্দে নদীতে আকস্মিক জলস্রোত নেমেছিল।
তুষারধসের কারণে হিমবাহ ভেঙে হড়পা বানের বিপদসঙ্কেত দেওয়া হয়েছিল ২০১৯ সালের এক গবেষণায়।
তাতে বলা হয়েছিল, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এই শতাব্দীর শুরু থেকে প্রতি বছর দেড় ফুটেরও বেশি উচ্চতার বরফ গলে যাচ্ছে হিমালয়ের হিমবাহগুলোতে।

মন্তব্যসমূহ