চীনা পণ্য পাচারের ‘ছায়া নেটওয়ার্কে’ ভারত, দাবি হোয়াইট হাউসের
![]() |
| ছবি : সংগৃহীত |
চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক এড়িয়ে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে ভারতসহ প্রায় ৪০টি দেশ ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করেছে হোয়াইট হাউস। এ তালিকায় ভারতকে শীর্ষ পর্যায়ের দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা উচ্চ শুল্ক এড়াতে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পুনঃরপ্তানির যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ নামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা পণ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না পাঠিয়ে কম শুল্কের আওতাধীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। সীমিত পরিসরে পণ্য সংযোজন, শেষ ধাপের কাজ, নতুন করে প্যাকেজিং, লেবেল পরিবর্তন কিংবা কাগজপত্রে পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব পণ্যের উৎপত্তিস্থল ভিন্ন দেশের বলে দেখানো হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য অবৈধ পণ্য পুনঃরপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিপুল পরিমাণ শুল্ক রাজস্ব হারাচ্ছে।
২০১৮ সালে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা কিছু পণ্যের ওপর ‘সেকশন ৩০১’ শুল্ক আরোপ করে। এরপর থেকেই চীনা রপ্তানিকারকেরা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর প্রবণতা বাড়াতে শুরু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের হিসাবে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০টি দেশ এই ‘ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্কে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীনা পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে এসব দেশের ভূমিকার মাত্রার ভিত্তিতে দেশগুলোকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে।
ভারতকে প্রথম স্তরে রাখা হয়েছে। এই স্তরে ভারতের সঙ্গে কানাডা, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসরায়েল ও মেক্সিকোর মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চীন থেকে মেক্সিকো, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রধান ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্র হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পণ্য গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার শুল্ক রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
চীন থেকে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসা পণ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের হিসাবে, বছরে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট হলে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বছরে ১১৩ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার।
তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, এসব সংখ্যা মডেলভিত্তিক হিসাব; সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা কর্মসংস্থান বা রাজস্ব ক্ষতির পরিসংখ্যান নয়।
চীনা পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট থেকে ভারতের কিছু বাণিজ্যিক করিডরও লাভবান হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে পুনে–গুজরাট–চেন্নাই করিডরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চীন থেকে বৈদ্যুতিক পাম্প ও কমপ্রেসর পুনঃরপ্তানির মাধ্যমে এই অঞ্চলের ব্যবসা লাভবান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনসিনাটি, ডেটন ও কলম্বাসের উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
শুল্ক এড়াতে পণ্য পুনঃরপ্তানিতে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য আটকে দেওয়া, শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ, নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বাতিলের মতো পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ