নিজের দেশে গুণীর কদর হয় না।'- প্রবাদটি যেন একেবারে খাটে বাংলাদেশি কিংবদন্তি প্রকৌশলী ড. ফজলুর রহমান খানের বেলায়।

 


এমন একজন মানুষ যিনি আধুনিক বিশ্বের অনেক পরিচিত আকাশচুম্বী অট্টালিকা নকশা করেছেন। গড়ে দিয়েছেন আধুনিক আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের মৌলিক কাঠামো। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীমহলে তাঁর উদ্ভাবন প্রশংসিত হয়। বলা হয় Structural Engineering এর আইনস্টাইন। টাইম ও নিউজউইকের মতো ম্যাগাজিনা গুলোতেও তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হয়। গুগল তার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ করে ডুডলে তাকে ফিচার করে। কিন্ত বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই চেনেনা তাকে। 


অথচ আজকের উন্নত বিশ্বের আকাশচুম্বী দালাকোঠা নির্মাণের পিছনে আমাদের দেশে জন্ম নেওয়া ড. ফজলুর রহমান খানের অবদান অনেক বেশি।


১৯২৯ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে ড. খান যোগ দেন বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান স্কিডমোর, ওইংস অ্যান্ড মেরিল (SOM)-এ। সেখানেই তিনি উদ্ভাবন করেন বহুতল ভবন নির্মাণের বৈপ্লবিক বান্ডলড টিউব পদ্ধতি। এই প্রযুক্তির ফলে অনেক কম ইস্পাত ব্যবহার করে আরও উঁচু, মজবুত ও সাশ্রয়ী ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়।


তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রমাণ শিকাগোর ১০০ তলা 'জন হ্যানকক সেন্টার' এবং ১১০ তলা সিয়ার্স টাওয়ার, যা সত্তরের দশকে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ছিল। আকাশচুম্বী ভবনের বাইরে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরের ১০৫ একর ছাদযুক্ত বিশাল হজ টার্মিনাল এবং কলোরাডোর ইউএস এয়ারফোর্স একাডেমিও তাঁর অসাধারণ কীর্তি।


কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭২ সালে মর্যাদাপূর্ণ কনস্ট্রাকশনস ম্যান অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন এবং স্থাপত্যের অত্যন্ত সম্মানজনক আলফ্রেড ই. লিন্ডাউ অ্যাওয়ার্ড' লাভ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।


লেখা: ইয়ামিন রহমান ফাহাদ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ চক্রের’ তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২

প্রতি বছর ৫০০ কোটি কন্ডোম তৈরি করে এই সংস্থা। কিন্তু হরমুজ বন্ধে পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবে লাটে ওঠ

সোমবার বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী