৬৩ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দামে রেকর্ড পতন, কৃতিত্ব কার?
![]() |
| ওষুধের দাম কমার প্রতিবেদন হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স |
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে ওষুধের দাম রেকর্ড কমার খবর দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। তবে ওই প্রতিবেদনই বলছে, কৃতিত্ব আসলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের।
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমার খবরে উচ্ছ্বসিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদেরকে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকার একটি খবর দেখিয়ে একে নিজ প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে জাহির করেছেন। তবে সেই খবরের ভেতরের তথ্য বলছে অন্য কথা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওষুধের এই দাম কমার পেছনে ট্রাম্পের নীতির চেয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নেওয়া 'ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট'-এর ভূমিকাই বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার নানা খাতে ব্যয় বাড়তে থাকার মধ্যেই ওষুধের খরচে বড় স্বস্তির এই খবর এসেছে। দেখা গেছে, জুলাই পর্যন্ত এক বছরে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ১৯৬৩ সালের মার্চের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামের সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী থাকার সময় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ছয় মাসের হিসাবেও ওষুধের দাম দ্রুত কমেছে।
আর এ বিষয়টিকেই নিজেদের ওষুধের দাম কমানোর নীতির বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যনীতি হিসেবে সামনে এনেছেন ট্রাম্প।
তিনি সাংবাদিকদের সামনে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ‘প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি তুলে ধরে কৃতিত্ব নেন। হোয়াইট হাউজের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কর্মকর্তারা ছবি প্রকাশ করে একে ট্রাম্পের নীতির জয় বলে প্রচার করেন।
ছবিতে ট্রাম্পের হাতে দেখা যায় ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদন। শনিবার হোয়াইট হাউজ সোশাল মিডিয়া ভাসিয়ে দেয় এই ছবি দিয়ে।
ছবির সঙ্গে হোয়াইট হাউজের সামাজিকমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, "পয়েন্ট অব ভিউ (আমার দৃষ্টিতে): আপনি প্রমাণ হাজির করেছেন।” হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও ছবিটি শেয়ার করেন।
এর আগে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক পরিকল্পিত ফটো-শুটের সময় ট্রাম্প নিজেই ওই খবরের কাগজ হাতে তুলে ধরেছিলেন। খবরের শিরোনামের পাশাপাশি প্রতিবেদনের প্রথম পাঁচটি লাইনও কাগজে দেখা যাচ্ছিল।
সাংবাদিকদের ছবি তোলা এবং খবরটি রেকর্ড করতে উৎসাহ দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আজকের শিরোনাম ঠিক এটাই। দেখেছেন?”
এরপর খবরটির ইতিবাচক অংশ সাংবাদিকদের পড়ে শোনান তিনি। ক্যামেরার সামনে আবার কাগজটি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, “সবাই পেয়েছেন তো? আমি বলেছিলাম, এমনটাই হবে।”
সাংবাদিকদের এই খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেও বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৬০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে যে কোনও সময়ের তুলনায় অনেক কমেছে। আর কী বলব?”
কিন্তু খবরের ভেতরের চিত্র ছিল আলাদা। ট্রাম্প যে খবরটি হাতে তুলে ধরে নিজের সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছিলেন, সেই ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ প্রতিবেদনই তার দাবির সঙ্গে একমত ছিল না।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে। স্বাধীন বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, দাম কমার পেছনে বাইডেন আমলের নীতির প্রভাবই বেশি। আর তা হল ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট’।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের প্রণীত এই অ্যাক্ট এর মাধ্যমে মেডিকেয়ারে বহুল ব্যবহৃত ওষুধের দাম নিয়ে সরাসরি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষির যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, চলতি বছরে এসে তারই কার্যকারিতা দেখা গেছে।
বাইডেনের ওই নীতির আওতায় প্রথম দফার মূল্যহ্রাস চলতি বছরের শুরুতে কার্যকর হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ও নীতি বিশেষজ্ঞদের (যেমন: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড ফ্রাঙ্ক ও ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেসি ডুসেটজিনা) উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ওষুধের বর্তমান দাম হ্রাসের পেছনে বাইডেন আমলের আইন ও মেডিকেয়ারের দর-কষাকষির একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও নীতি নয়।

মন্তব্যসমূহ