প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
![]() |
| ছবিসূত্র: পিএমও বাংলাদেশ ফেসবুক |
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট) বর্তমান কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘অপারেশন সি এঞ্জেলস’-এর কথা স্মরণ করেন। ওই মানবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বিভিন্ন নৌমহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে ‘ক্যারাত’ (Cooperation Afloat Readiness and Training—CARAT) মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘সি ভিশন এক্সারসাইজ’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন এই কমান্ডার ভবিষ্যতে নিয়মিত অনুষ্ঠিত ‘রিম অব দ্য প্যাসিফিক’ (Rim of the Pacific—RIMPAC) মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের আরও অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জিএসওএমআইএ (General Security of Military Information Agreement—GSOMIA) নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং চুক্তি-সংক্রান্ত অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে যুগোপযোগী ও বিস্তৃত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্যসমূহ