ইমরানের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আপসের সুযোগ নেই: ওয়াসিম আকরাম
![]() |
| ইমরান খানের সঙ্গে ওয়াসিম আকরাম (বাঁয়ে)। ছবি: ওয়াসিমের ইনস্টাগ্রাম |
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার দাবি তুলেছেন দেশটির পেস বোলিং গ্রেট ওয়াসিম।
কারাবন্দি ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের সুচিকিৎসা নিয়ে আপসের কোনো সুযোগ দেখেন না দেশটির পেস বোলিং গ্রেট।
ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে নাম লেখানো ইমরান ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন। দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি। যদিও অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান।
দা অ্যাথলেটিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম বলেছেন, তিনি তার ‘মেন্টর ইমরান খানকে’ ভীষণ মিস করেন। রাজনীতিকে এক পাশে রেখে ‘বন্ধুর’ সুচিকিৎসার দাবি করেছেন তিনি।
“তিনি আমার বন্ধু, আমি তাকে অনেক মিস করি। তার সঙ্গে তিন বছর কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে যা ঘটছে, তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের আইন আদালতের আইন। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো আপস করা যায় না।”
গত কয়েক সপ্তাহে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। তার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে গত মাসে ২২ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন। সেখানে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বর্তমান অধিনায়কদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স প্রথম এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। কদিন আগে ব্রায়ান লারাও ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারকে ‘আমাদের খেলার একজন কিংবদন্তি’ উল্লেখ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি বলেন, তিনি ‘ন্যূনতম মানবিক আচরণ’ পাওয়ার যোগ্য।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে পাকিস্তানের আরও অনেকে কথা বলেছেন। অশ্রুসিক্ত এক আবেদনে তার মুক্তি দাবি করেন জাভেদ মিয়াঁদাদ। সরকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার মতপার্থক্য ‘সমাধানের’ আহ্বানও জানান তিনি। এরপর মঈন খান ও রামিজ রাজাও ইমরানের পক্ষে কথা বলেন।
ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের চলমান লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার, লাঞ্চ বিরতির সময় স্কাই স্পোর্টসে ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। যেখানে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন সুলেইমান খান ও কাশিম খান।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে তখন লেখা হয়েছিল, ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে পিসিবি স্কাই স্পোর্টসের কাছে অভিযোগ করে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দল মাঠে না নামার কথাও নাকি ভেবেছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্যই তেমন কিছু হয়নি। ম্যাচটি ১৯৪ রানে হারে পাকিস্তান।
ওই সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াসিম বলেন, “এরপর এখানে (পাকিস্তানে) কিছুটা শোরগোল পড়ে যায়। পরে পড়েছি, পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে কতজন দেখা করেছেন, কতগুলো ফোনকল হয়েছে- সব সংখ্যাসহ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আসলে কী বিশ্বাস করব, সেটা বোঝা কঠিন।
“অবসর নেওয়ার পরও আমরা দুজন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। আমি তার সঙ্গে সময় কাটাতে যেতাম। তার সঙ্গে কথা বলা মিস করি। রাজনীতি বাদ দিলে, একজন বন্ধু হিসেবে তাকে মিস করি।”
ওয়াসিমের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইমরান। আকরাম প্রায়ই ইমরানকে তার মেন্টর হিসেবে কৃতিত্ব দেন। আর ইমরান সবসময়ই বলে এসেছেন, তার দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন ওয়াসিম।
১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের নেতৃত্বে খেলেন ওয়াসিম। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের পথে অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৩ রান করার পর বল হাতে ৩ উইকেট নেন ওয়াসিম।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এত উদ্বেগের সূত্রপাত হয়েছে আদালতের একটি নির্দেশের পর। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
“ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় (ইমরানের অবস্থার উন্নতির দাবিতে) একটি জনমত তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এখানে (পাকিস্তানে)? আমি নিশ্চিত নই (কিছু হচ্ছে কিনা)।
একজন মানুষ হিসেবে তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আমি হৃদয় থেকে কথা বলছি। তিনি দোষী সাব্যস্ত হন বা না হন, জেলে থাকুন বা না থাকুন- তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কী ঘটছে, আমরা জানি না। সরকার বলছে, তার স্বাস্থ্য নাকি ভালো। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন। আমি তাকে অনেক মিস করি।”

মন্তব্যসমূহ